[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ব্যাডমিন্টনের ঈশান কোনে আশার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:১২ পিএম

আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের ব্যাডমিন্টনের সাফল্য ছিল হাতেগোনা। সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের মধ্যেই আবদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন লাল সবুজের শাটলাররা। ধীরে ধীরে সেই গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন তারা। এখন বৈশ্বিক পর্যায়েও পদক জিততে শুরু করেছেন দেশের শাটলাররা। যা দেশের ব্যাডমিন্টন অঙ্গণে আশার আলো জাগিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কানাডায় আয়োজিত হয় ইউনেক্স কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল চ্যালেঞ্জ। টরেন্টোতে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টের পুরুষ দ্বৈতে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বাংলাদেশের দুই শাটলার আল আমিন জুমার ও মোয়াজ্জেম হোসেন অহিদুল। সেমিফাইনালে স্বাগতিক দলের কাছে ২-১ সেটে হেরে ব্রোঞ্জ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। ঢাকায় সদ্য সমাপ্ত ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশাল চ্যালেঞ্জেও তাদের নিয়ে প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা খেলতে পারেননি। এই জুটি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বাদ পড়েন। তবে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র জুটি। আল আমিন ও উর্মি আক্তার জুটি কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের স্বস্তিক মাথারাসান ও কীর্তি মাঞ্চালা জুটিকে ২১-১৬, ১৯-২১ ও ২১-১৮ পয়েন্টে (২-১ সেটে) হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে । ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আল আমিন ও উর্মি জুটির কাছে মাথানত করে থাইল্যান্ডের কুনলাপাত লোথং ও সারিসা জানপেং জুটি। তাদের হার সরাসরি ২১-১১ ও ২১-১৪ গেমে (২-০ সেটে)। যদিও স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে থামতে হয়েছে স্বাগতিক জুটিকে। ফাইনালে মালয়েশিয়ান জুটির কাছে ২৭-২৫ ও ২১-১৪ পয়েন্টে হেরে রুপা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে আল আমিন ও উর্মি জুটিকে।

স্বর্ণ হারালেও এই রুপা আগামীর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তবে আরও উন্নত অনুশীলন পেলে সামনে স্বর্ণপদক জিতবেন বলেও জানান আল আমিন। তার কথা, ‘এত কাছে গিয়েও স্বর্ণপদক অধরা থাকল, এজন্য খারাপ লাগছে। তবে পর্যাপ্ত অনুশীলন পেলে আমরাও স্বর্ণ জিততে পারব। কারণ মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে সুযোগ-সুবিধা ট্রেনিংয়ে অনেক এগিয়ে। আমরা কিছুটা হলেও পিছিয়ে। একক, দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত তিন বিভাগেই আমি খেলেছি। আমি কোনো ক্লান্তি অনুভব করিনি, আনন্দ নিয়েই খেলেছি। এবার পারিনি, ভবিষ্যতে অবশ্যই দেশের জন্য স্বর্ণ পদক জিতে আনব।’

ভাল অনুশীলন যে ভাল ফল এনে দেয়, তার প্রমাণ পেয়েছেন উর্মি আক্তার। তার কথা, ‘আমরা দীর্ঘদিন এসএ গেমসের অনুশীলনে ছিলাম। এই অনুশীলনই আমাকে সহায়তা করেছে রুপা জিততে। তবে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী অনুশীরনের প্রয়োজন। তাছাড়া ব্যাডমিন্টনে উন্নত দেশগুলোর মতো আমরাও যদি সব ধরনের সুবিধা পেতাম, তাহলে আরও অনেকদূর যেতে পারতাম।’ ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক রাসেল কবির সুমন দেশের ব্যাডমিন্টন উন্নয়নে আশাবাদি, ‘আমরা চেষ্টা করছি শাটলারদের মানোন্নয়নে কাজ করতে। এসএ গেমসের আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে কোচ এনেছিলাম। তারই ফল তারা পেয়েছে কানাডা ও স্বদেশের টুর্নামেন্টে। আশাকরি সামনেও তাদেরকে আমরা ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারব।’ ফেডারেশনের সভাপতি হাবিব উল্যাহ ডনের কথা, ‘শাটলাদের জন্য আমরা সব কিছু করতে প্রস্তুত।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর