[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এসিসি প্রধান পাকিস্তানের নদভী, তাই ট্রফি গ্রহণ করেনি ভারত!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:০৯ এএম

ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট। এই প্রবাদ বাক্যটি এখন আর হয়তো যায় না ক্রিকেটের সঙ্গে। কারণ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তান ও ভারতের সাম্প্রতিক কর্মকা-ই তা প্রমাণ করছে। শুধু তাই নয়, ভারতের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তও এর জন্য দায়ী। কিন্তু তারপরও তাদের কিছুই হয় না। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতি ভারতীয় জয় শাহ এবং তার মেন্টরও ভারতীয়।

 

এমন কিছু যে হবে সেটা ভারতের মিডিয়ার বরাতেই জানা গিয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনাল মঞ্চে অদৃশ্য বয়কটের কৌশল নেবে বিসিসিআই। সেটারই বাস্তবায়ন দেখা গেলো পরে। দুবাইয়ে রবিবার নাটকীয় ঘটনার জন্ম দেয় ভারতীয় ক্রিকেট দল। পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা জেতার পরও তারা ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিলম্বিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষ হয় ট্রফি ছাড়াই।

কারণ ছিল একটিই- ট্রফিটি তুলে দেওয়ার কথা ছিল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এএসসি) সভাপতি মোহসিন নাকভির। যিনি একইসঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি চেয়ারম্যান। তাই ভারতীয় দল বরাবরের মতো বয়কটের কৌশল হাতে নেয়। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এশিয়া কাপের ট্রফি এসিসি প্রধানের কাছ থেকে নেবো না, কারণ তিনি পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ নেতা। তবে এর মানে এই নয় যে ভদ্রলোক ট্রফি ও মেডেল নিয়ে চলে যাবেন। বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যজনক, আমরা আশা, করি দ্রুতই ট্রফি ও মেডেল ভারতে ফেরত পাঠানো হবে।’

তিনি আরও জানান, নভেম্বরের দুবাই সম্মেলনে আইসিসির কাছে ভারত এ নিয়ে ‘গুরুতর ও শক্ত প্রতিবাদ’ জানাবে।


বাইরের ঘটনায় ফাইনালের রাতটা ছিল বিভ্রান্তি আর নাটকীয়তার! স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১০টা ৩০ মিনিটে রোমাঞ্চকর ম্যাচ শেষ হলেও ট্রফি বিতরণ শুরু হয় প্রায় মধ্যরাতে। তখনই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, ভারত নাকি নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি নয়।

শেষ পর্যন্ত যখন মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হয়, তখন কুলদীপ যাদব, অভিষেক শর্মা ও তিলক বর্মা ইচ্ছাকৃতভাবেই নাকভিকে এড়িয়ে অন্যান্য অতিথিদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পুরস্কার গ্রহণ করেন। অন্যদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী সরাসরি নাকভির কাছ থেকেই রানার্স-আপের চেক গ্রহণ করেন।

মঞ্চে তখন উপস্থাপক সাইমন ডুল ঘোষণা দেন, ‘আমাকে এসিসি জানিয়েছে যে ভারতীয় দল আজ তাদের পুরস্কার গ্রহণ করবে না। সুতরাং এর মাধ্যমে আজকের পুরস্কার বিতরণী শেষ হলো।’

খেলা শেষ হতে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা ড্রেসিংরুমে ফিরে গেলেও ভারতীয় খেলোয়াড়রা মাঠেই অবস্থান করেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চ তৈরি করা হয়নি। এর মধ্যেই এসিসি সভাপতি মোহসিন নাকভি মাঠে আসেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত থাকেন। এ সময় গ্যালারির দর্শকসংখ্যা কমতে শুরু করলেও ভারতীয় সমর্থকদের বড় একটি অংশ তখনও মাঠে অবস্থান করছিল।

প্রায় এক ঘণ্টা পর মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন নাকভি ও অন্য অতিথিরা। হঠাৎই একজন কর্মকর্তা কোনও ব্যাখ্যা না দিয়েই উঁচু মঞ্চ থেকে এশিয়া কাপের ট্রফি সরিয়ে নিয়ে যান। এরপর পাকিস্তান দল মাঠে ফিরে আসে এবং উপস্থাপক সাইমন ডুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।

যেসব ভারতীয় ক্রিকেটার ব্যক্তিগত পুরস্কার পেয়েছিলেন, তারা মঞ্চে উঠেছিলেন ঠিকই। কিন্তু কেউ দাঁড়িয়ে থাকা নাকভিকে অভিবাদন জানাননি। পুরস্কার গ্রহণ করেছেন অন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। একইভাবে নাকভিও কোনও ভারতীয় খেলোয়াড় মঞ্চে উঠলে হাততালি দেননি।

পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা একে একে মঞ্চে উঠে রানার্স-আপ মেডেল গ্রহণ করেন। অধিনায়ক সালমান নাকভির কাছ থেকে চেক নেন এবং তার সঙ্গে ছবি তোলেন। এরপর উপস্থাপক সাইমন ডুলের সঙ্গে ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকার শেষ হলে অতিথিরা মঞ্চ ছাড়েন।

পরে ভারতীয় দল ও কর্মকর্তারা পডিয়ামে উঠে নিজেদের উদযাপন শুরু করেন। তবে ট্রফি না থাকায় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সতীর্থদের নিয়ে অদৃশ্য ভঙ্গিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন—যেটিকে ঘিরে চলে তাদের বিজয় উদযাপন।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর