এশিয়া কাপের ট্রফি ইউএই ক্রিকেট বোর্ডে জমা দিলেন নাকভি!
এশিয়া কাপে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন চরমে পৌঁছেছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নেয়নি চ্যাম্পিয়ন ভারত। এসিসি ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন ঘটনার জেরে বিসিসিআই এখন নাকভির অভিশংসনের হুমকি দিয়েছে।
ফাইনালে সুর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলেও ম্যাচ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ট্রফি হস্তান্তর সম্পন্ন হয়নি। নকভীর হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ায় পরে তা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জমা দেন। বর্তমানে ট্রফিটি ইউএই বোর্ডের হেফাজতে থাকলেও, কখন এবং কীভাবে এটি ভারতের হাতে তুলে দেয়া হবে, সে ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। এনডিটিভি
ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই এই ঘটনাকে প্রশাসনিক দায়িত্বের চরম অবহেলা এবং প্রটোকল ভঙ্গ হিসেবে দেখছে। বিসিসিআই কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসিসি প্রধান হিসেবে নাকভি তার মৌলিক কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে না দিয়ে তিনি শুধু ভারতীয় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেননি, বরং এসিসি ও আইসিসি দুটো সংগঠনের মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
ভার্চুয়াল এসিসি বৈঠকে বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা (রাজীব শুক্লা ও আশীষ শেলার) নাকভির মুখোমুখি হয়ে কড়া ভাষায় আপত্তি জানান। তারা স্পষ্টভাবে বলেন, ট্রফি কোনো ব্যক্তির নয়, বরং বৈধ বিজয়ী দলের। তারা নাকভিকে ভারতীয় দলকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোর আহ্বান জানান, তবে নাকভি সে অনুরোধ উপেক্ষা করেন। এসিসি যদিও ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে স্বীকার করেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত নাকভির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো ক্ষমা প্রার্থনা আসেনি।
এদিকে সমালোচকদের মতে, এশিয়া কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট শেষে এমন বিতর্ক ক্রিকেটের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এখন নজর সবার আইসিসির দিকে কীভাবে তারা এই সংকট মোকাবিলা করে এবং ভারতীয় দলকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে ট্রফি প্রদান নিশ্চিত করে, সেটাই দেখার বিষয়।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: