নারী বিশ্বকাপেও ভারতের কাছে হারল পাকিস্তান
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ নিজেদের প্রথম মুখোমুখিতে আগে ব্যাটিং করে ২৪৭ রান করে ভারত। জবাব দিতে নেমে ১৫৯ রানে থেমে যায় ফাতিমা সানার দল
টস বিতর্ক, দুই অধিনায়কের হাত না মেলানো, আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত ও মশার হানা- এমন অনেক ঘটনার ম্যাচে আসল কাজটাই করে দেখিয়েছে ভারত নারী দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৮ রানে জয় তুলে নিয়েছে হারমানপ্রীত কৌরের দল। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে পাকিস্তানি নন্দিনীরা।
প্রথমে ব্যাটিং করে টপ-মিডল অর্ডারের দায়িত্ব সুলভ ব্যাটিংয়ে চ্যালেঞ্জ পুঁজি দাঁড় করায় ভারত। প্রতিকা রাওয়াল ও স্মৃতি মান্দানা শুরুটা এনে দেন। দুজনের উদ্বোধনী পার্টনারশিপ থেকে আসে ৪৮ রান।
স্মৃতি ফিরলেও কালক্ষেপণ করেননি তারই ওপেনিং পার্টনার প্রতিকা। দলীয় ৬৭ রানে ফেরেন তিনিও। তবে হারলান দেওল ও হারমানপ্রীত মিলে আরেকটি সুন্দর জুটি উপহার দেন। তাদের জুটি ভাঙে, ভারত অধিনায়ক ক্যাচ আউট হলে। যদিও ততক্ষণে দলের শতরান পার হয়।
উপরের সারির চার ব্যাটারের বিদায়ের পর দীপ্তি শর্মাকে নিয়ে স্কোর বড় করার পণ করেন হারলান। ব্যক্তিগত সংগ্রহের পাশাপাশি দলেরও শক্ত পুঁজির দিকে ছুটেন তিনি। তার সে যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ান রাহিম শামীম। অর্ধশতক থেকে ৪ রান আগে ফিরতে হয় হারলানকে।
ভারতের দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান ডান হাতি অলরাউন্ডার হারলানের। ৪ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় তিনি ৬৫ বলে স্কোরবোর্ডে জমা করেন ৪৬ রান।
একটা সময় মনে হচ্ছিল ভারত ২০০-২০ এর মধ্যে আটকে যাবে। সেখান থেকে দলের সংগ্রহ বড় করেন রিছা ঘোষ। ক্যামিও ইনিংস খেলে ২০ বলে ৩৫ রান করেন রিছা। ৩টি চার ও দুটি ছক্কা ছিল তার ইনিংসে। রিছা অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত।
পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে দিয়ানা বেগ সর্বোচ্চ চারটি উইকেট তোলেন। কোটার ১০ ওভারে ৬৯ রান খরচ করেন তিনি। সাদিয়া ইকবাল ও ফাতিমা সানার দখলে দুটি করে উইকেট।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই পাকিস্তানকে বিপদে ফেলেন মুনিবা আলি। রান আউটে কাটা পড়েন এই পাকিস্তানি ওপেনার।
তবে এই আউট নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।
চতুর্থ ওভারের শেষ বলের ঘটনা। ক্রান্তি গৌদের ডেলিভারি মুনিবার প্যাডে লাগে। এলবিডব্লুউর জোর আবেদন জানায় ভারত। তাতে সাড়ায় দেয়নি আম্পায়ার। বল লেগ সাইডের বাইরে পিচ করেছিল বলেই মনে হচ্ছিল।
এরই মধ্যে নাটকীয় এক ঘটনার সাক্ষী হন মুনিবা। ভারতের এলবির আবেদনের মধ্যেই ক্রিজ থেকে বেরিয়ে আসেন পাকিস্তানি ওপেনার। সেই সুযোগে থ্রো করে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন দীপ্তি শর্মা। মুনিবা প্রথমে তাঁর ব্যাট মাটিতে রাখলেও বল স্ট্যাম্প লাগার সময় ব্যাট আবার উপরে উঠে যায়। টিভি স্ক্রিনের সিদ্ধান্ত ‘আউট’।
এমন ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন মুনিবা। আর পাকিস্তানি ওপেনারকে ফিরিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে ভারত। বিতর্কিত এই আউটে সীমানার বাইরে চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় পাকিস্তান নারী দলের অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে।
এরপর আরেক ওপেনার সাদাফও বাইশ গজ ছাড়েন। দলীয় ২০ রানের দলের নির্ভরযোগ্য দুই ওপেনারকে হারানোর যন্ত্রণা বুঝতে দেননি সিদরা আমিন। অপ্রতিরোধ ইনিংস উপহার দেন ডানহাতি এই ব্যাটার। টিকে ছিলেন ৩৯.৫ ওভার পর্যন্ত। ক্যাচ আউটে সাজঘরে ফেরার আগ পর্যন্ত ব্যক্তিগত সংগ্রহে জমা করেন ৮১ রান।
ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক তোলাকালীন কখনো আলিয়া রিয়াজ, কখনোবা সিদরা নাওয়াজ-নাতালিয়া পারভিজের সঙ্গে জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু লোয়ার এন্ডের ব্যর্থতায় ভারতের বিপক্ষে আরেকটি পরাজয় দেখতে হলো পাকিস্তানের মেয়েদের।
ভাতের বোলারদের মধ্যে দীপ্তি শর্মা ও ক্রান্তি গৌড় তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। দুটি উইকেট ছিল স্নেহা রানার।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: