[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাবর-রিজওয়ানদের ওপর চটলেন কোচ আজহার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:১০ এএম

স্পিন রাজত্ব করছে লাহোর টেস্টে। ম্যাচের বর্তমান চিত্র বলছে, আজ চতুর্থ দিনেই ফল জানা যাবে। বিশেষ করে দুই দলের স্পিনাররা যেভাবে প্রতিপক্ষকে নাচিয়ে ছাড়ছে, তা উপভোগ্যের চেয়েও বেশি বিষাদের। আর চেনা মাঠে পাকিস্তানের এই দুর্দশা দেখে বেশ বিরক্ত দলটির প্রধান কোচ আজহার মাহমুদ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে এক পর্যায়ে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৫০ রান। সেখান থেকে ১৭ রান যোগ করতেই বাকি ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার ও বর্তমান কোচ আজহার মাহমুদ।

মঙ্গলবার (তৃতীয় দিন) দিন শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা ৪ উইকেটে ১৫০ রানে ছিলাম। সেখান থেকে মাত্র ১৭ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলি। কাউকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই, দায় শুধু আমাদের শট নির্বাচন আর সিদ্ধান্ত গ্রহণে।’

আজহার আরও বলেন, ‘এটা একেবারে সোজা হিসাব— ১৭ রানে ৬ উইকেট হারানো কখনোই আদর্শ হতে পারে না। পিচ বল ঘুরাচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু আউট হওয়াটা ব্যাটসম্যানদের ভুলেই হয়েছে, পিচের কারণে নয়। আমাদের শট সিলেকশন মোটেও ভালো ছিল না। এ দিক থেকে আরও উন্নতি করতে হবে। যদি আমাদের এমন পিচে খেলতে হয়, তবে ধৈর্য নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।’

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের তিন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন এটিও কোচের হতাশার বড় কারণ। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা ব্যবহৃত পিচে খেলেছি। এমন পিচে যদি তুমি ভালো ব্যাটিং করো, তাহলে টিকে থাকা সহজ হয়ে যায়। প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটাররা ভালো শুরু পেলেও সেটা ৫০ বা ১০০ রানে পরিণত করতে পারেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে শফিক আব্দুল্লাহ (৪১) ও বাবর আজম (৪২) রান করেছে, কিন্তু কেউই সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেনি।’

আজহার স্বীকার করেছেন, এমন পিচে রান করাটা কঠিন। তবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সহজ নয়। তবে আমাদের বিভিন্ন ধরনের শটে পারদর্শী হতে হবে। মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা চেষ্টা করেছে, কিন্তু পেসারদের সামলাতে পারেনি। আমাদের উচিত ছিল পুরো সেশন ব্যাটিং করা, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমরা ভুল করেছি। ভবিষ্যতে এই দিকটায় নজর দিতে হবে।’

শেষে টেস্ট ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যাটসম্যানদের মনোযোগ হারানো নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি:

‘টেস্টে আপনি বুঝতে পারেন, কখন আপনি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন— সেটা সাধারণত সেশন শেষ হওয়ার সময়। সৌদ শাকিল টি-ব্রেকের ঠিক আগে যে অপ্রয়োজনীয় লফটেড শটটা খেলেছে, সেটা ওকে অযথা চাপে ফেলেছে। টি-ব্রেকের পরপরই রিজওয়ান আউট হয়ে যায়। এরপর আমরা শাহিনকে (শাহিন আফ্রিদি) পাঠাই।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর