বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন নাহিদ রানা
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সিলেট পর্বেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল তিনটি দল- রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম রয়েলস ও সিলেট টাইটান্স। এবার বিপিএলের শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে রংপুর রাইডার্স। আর তাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটাল ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরের প্লে-অফ নিশ্চিতের দিনে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন নাহিদ রানা। ম্যাচে ৪ ওভারে কোনো বাউন্ডারি না দিয়ে মাত্র ১১ রান খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১১ রানে হারিয়ে তার দল রংপুরও।
তবে নিজের অর্জন বা সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস নেই ২৩ বছর বয়সী নাহিদের। বরং দলের জয়ের অবদান রাখতে পেরেই খুশি এই ডানহাতি পেসার। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া নিয়েও কোনো আফসোস নেই তার। স্কিল থাকলে একদিন সে আশাও পূরণ হবে বলে বিশ্বাস এই গতিদানবের।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, 'প্রথমত, আলহামদুলিল্লাহ। বোলিংয়ে আসলে ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য থাকে না, যখন আমি মাঠে নামি। তখন একটাই চিন্তা থাকে যে, আমি কেমনে আমার দলকে ম্যাচ জেতাব, ম্যাচ উইনিং পারফর্ম করব। তো দলের জন্য কিছু কন্ট্রিবিউট করতে পেরেছি এটা সবচেয়ে খুশির বিষয়।'
নিজের কিপটে বোলিং করা প্রসঙ্গে এই পেসার আরও বলেন, 'বেশি রান দেয়া, কম রান দেয়া, এটা আমার কাছে ম্যাটার করে না। আমার কাছে ম্যাটার করে আমি দলকে উইনিং পারফর্মটা কীভাবে দিতে পারছি। সেটা হতে পারে আমি প্রথম তিন ওভারে ৩০ রান দিয়েছি, শেষ ওভারে দুইটা উইকেট দুই রান দিয়ে।'
'যদি ধরেন তিন ওভারে ৪০ রান দিই, কিন্তু শেষ ওভারে ধরেন যদি ৭-৮ রান লাগে, সেখান থেকে আমি যদি জিততে পারি, ওটাতে আমি খুশি। কারণ আমি এখানে ব্যক্তিগত লক্ষ্য বলে কিছু দেখি না। আমি দেখি একটা জিনিসই যে, কেমনে আমি আমার দলকে উইনিং পারফর্ম দেব। এটা করতে পারলে আমার অনেক খুশি লাগে।'
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে নাহিদের ভাষ্য, 'আসলে দেখেন সিলেকশনের ব্যাপারটা আমার হাতে না। দ্বিতীয় আমার কাজ একটাই, কেমনে আমি পারফর্ম করব। আমি এই জিনিসটা করে যাচ্ছি এবং আমি জানি যে যেকোনো সময় সুযোগ আসবে। সুযোগ এলে তখন আমি প্রমাণ করব।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি তো এখন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই। তাই কখনও চিন্তা করি না যে আমি কেন নেই। ধরেন আমার যদি আমার ভেতরে স্কিল থাকে, যদি আমি যোগ্য হই অটোমেটিক আমি ওই জায়গাতে যাব। একদিন পরে হোক বা দশ দিন পরে- সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারব, যদি আমার মধ্যে প্রতিভাটা থাকে।'
গতির রেকর্ডের আন্ষ্ঠুানিক হিসেবে নাহিদ বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্রুততম বোলার। ১৫২ কিলোমিটার গতি ছাড়িয়েছেন তিনি। ১৫০ ছাড়িয়েছেন বেশ কবার। গতিময় বোলারদের অনেকের হয়তো লক্ষ্যে থাকে, পরের ম্যাচে নিজেকে আরও ছাড়িয়ে যাওয়া। নাহিদ অবশ্য বললেন, গতি নিয়ে তার নিজের কোনো লক্ষ্য নেই।
তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য বলতে একটাই ছিল, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা এবং তিন ফরম্যাটে খেলেছি। এখন একটাই লক্ষ্য, বাংলাদেশ দলে যতদিন সার্ভিস দিতে পারি। ফিট থেকে এটাই হচ্ছে লক্ষ্য, বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দেওয়া কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যে ফ্র্যাঞ্চাইজিতে থাকবো, ওই দলকে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দেওয়া।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: