নাটকীয় জয়ে কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্স
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা। জিততে হলে সিলেটের শেষ বলে চাই ছক্কা, না হলে বিদায়। বিপিএল এলিমিনেটরের ভাগ্য তখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। ফাহিম আশরাফের করা স্লোয়ার ডেলিভারিটি যখন ক্রিস ওকসের ব্যাটে লেগে এক্সট্রা কাভার দিয়ে সীমানার বাইরে আছড়ে পড়লো, তখন গ্যালারিতে কেবল সিলেটের গর্জন।
রংপুরকে ৩ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করলো সিলেট টাইটান্স। শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতানোর প্রথম ঘটনা দেখলো বিপিএল। ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস এই কীর্তি গড়লেন বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচে! তবে ১১১ রানের মামুলি পুঁজি নিয়েও রংপুর রাইডার্স যে লড়াইটা করলো সেটিকেও অবিশ্বাস্য না বলার উপায় নেই।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য সিলেটের দরকার ছিল ৯ রান। ক্রিজে দুই ইংলিশ তারকা মঈন আলী ও ক্রিস ওকস। ফাহিম আশরাফের প্রথম বলে ২ রান নেন মঈন। পরের দুই বল ডট দিয়ে স্নায়ুচাপ বাড়িয়ে দেন ফাহিম। চতুর্থ বলে মঈন (৯ বলে ৫) আউট হলে ম্যাচ রংপুরের মুঠোয় চলে আসে। পঞ্চম বলে নতুন ব্যাটার খালেদ আহমেদ ১ রান নিয়ে ওকসকে স্ট্রাইক দেন। শেষ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ছয় রান। ওকস সেই অসাধ্য সাধন করে রংপুরকে স্তব্ধ করে দেন। এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর।
ডেভিড মালান (৪), তাওহিদ হৃদয় (৪), অধিনায়ক লিটন দাস (১) ও কাইল মায়ার্স (৮)- প্রথম চার ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি। সিলেটের পেসার খালেদ আহমেদ একাই ধসিয়ে দেন রংপুরের টপ অর্ডার। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৩৩ ও খুশদিল শাহর ৩০ রানে ভর করে কোনোমতে ১১১ রান তোলে রংপুর। সিলেটের হয়ে খালেদ মাত্র ১৪ রানে ৪টি এবং ক্রিস ওকস ১৫ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। ১১২ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই তৌফিক খানকে হারায় সিলেট। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে শুরু হওয়া সেই ধাক্কা সামাল দিতে দেননি নাহিদ রানা ও আলিস আল ইসলাম। নাহিদ রানা গতির ঝড় তুলে সিলেটের ব্যাটারদের দিশাহারা করে দেন। মাঝের ওভারে আলিস আল ইসলাম ছিলেন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিলেট যখন খাদের কিনারায়, তখন স্যাম বিলিংসের ২৯ রান দলকে লড়াইয়ে রাখেন।
দলীয় ৯৭ রানের মাথায় বিলিংস ২৯ রান করে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ জমে যায়। শেষ দিকে মঈন আলীর কাঁধে ছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে পারেননি ইংলিশ অলরাউন্ডার। তিনি আউট হয়েছেন ৯ বলে ৫ রান করে। তবে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরকে শিরোপা জয়ের স্বপ্নে হোঁচট দেন ক্রিস ওকস। এর আগে আরও দুবার শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নেয়ার উদাহরণ ছিল বিপিএলে, তবে সেই দুই ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা মারার সমীকরণ ছিল না। ২০১৭-১৮ মৌসুমের বিপিএলে চট্টগ্রামে লীগ পর্বের ম্যাচে চিটাগং কিংসকে হারাতে শেষ বলে ৩ রান দরকার ছিল রংপুর রাইডার্সের। দলটির লঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা তাসকিন আহমেদকে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে রংপুরকে ৩ উইকেটের জয় এনে দেন। দ্বিতীয় ঘটনাটি এক বছর আগের। ফরচুন বরিশালের দেয়া ১৯৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করা রংপুর রাইডার্সকে শেষ বলে ২ রান করতে হতো। নুরুল হাসান সোহান সেই বলে ছক্কা মারেন।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: