[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট

আইসিসির ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা, কার ভাগে কত পড়বে?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:০২ পিএম

আসন্ন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নির্ভর করছিল দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। আইসিসির দ্বিচারিতার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন চাউর হলেও শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের আসরটিতে অংশগ্রহণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে পিসিবি চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। পাকিস্তান সরকার এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলা হয়েছে, 'পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।'

সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে এই একটি ম্যাচই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত আইসিসির কাছে। তাই পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর থেকেই আর্থিক ক্ষতির আলোচনা সামনে এসেছে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই না হলে প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে এমন খবর জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচটির সম্মিলিত আর্থিক মূল্যের পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসির পাশাপাশি এই দুই দেশও যে ক্ষতির মুখে পড়বে, তা অনুমেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বেচ্ছায় ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ালে পিসিবির ক্ষেত্রে কোনো বীমা বা আইনি সুরক্ষা কার্যকর হবে না। এর ফলে আইসিসি থেকে প্রাপ্য অর্থ স্থগিত, মোটা অঙ্কের জরিমানা আরোপ ও সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণ দাবি আসতে পারে। আইসিসির মোট আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পায় পায়, যা বছরে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার সমান (৩৪.৫ মিলিয়ন ডলার)।

এনডিটিভি জানাচ্ছে, সব মিলিয়ে পিসিবির মোট ক্ষতি ৬০০ কোটি টাকা থেকে ১,২০০ কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাকিস্তান ছাড়াও ক্ষতির মুখে পড়বে সম্প্রচারকারীরা। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ থেকে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বিজ্ঞাপন খাতেই আয় করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। যা বিশ্বকাপের অন্য যেকোনো ম্যাচের তুলনায় সর্বোচ্চ।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি না হলে সম্প্রচারস্বত্বধারীরা আইসিসির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। ভারতের সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান জিওস্টার ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি আইসিসিকে জানিয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের গড় বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা।

মূলত, আইসিসির টাকায় চলে অনেক ক্রিকেট বোর্ড। এখন আয়ে টান পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছোট বোর্ডগুলো। সম্প্রচার আয় কমে গেলে সরাসরি চাপ পড়বে আইসিসির কেন্দ্রীয় তহবিলে। এর ফলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজস্ব বণ্টন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব সহযোগী ও ছোট ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির অর্থের ওপর নির্ভরশীল, তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান-আইসিসির সঙ্গে ভারতের ক্ষতির অঙ্কটাও বড়। ম্যাচটি না হলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে পারে। তবে শক্তিশালী বাণিজ্যিক কাঠামোর কারণে এই ক্ষতি ভারতের জন্য তুলনামূলকভাবে বড় ক্ষতি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর