[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাকিস্তানকে শাস্তি দেয়া সম্ভব নয়, আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০২ এএম

আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানকে ম্যাচ বয়কটের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সরকার। বয়কটের ঘটনায় পাকিস্তানের ওপর কী শাস্তি নেমে আসে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি। তার মতে, সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে পাকিস্তানকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

স্পোর্টস্টারকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মানি বলেন, ‘সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় না। ঠিক এই যুক্তিতেই ভারত ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এখানে দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সমস্যার সমাধান করার বদলে আইসিসি তখনও নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলে যেকোনো দেশের জন্যই সরকারের হস্তক্ষেপের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যখন পিসিবির চেয়ারম্যান নিজেই সরকারের একজন মন্ত্রী।’

এহসান মানির এই মন্তব্য আসে পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া এক পোস্টের পর। সেখানে জানানো হয়, জাতীয় দলকে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য গ্রুপ ‘এ’–এর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের যৌথ আয়োজনে হওয়া এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলার কথা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তান ওই ম্যাচে দুই পয়েন্ট হারাবে।

এর আগে জানুয়ারিতে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া নিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রশ্ন তোলার পর পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েই জল্পনা শুরু হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে আইসিসি জানিয়েছে, ভারত ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে তারা এখনও পিসিবির কাছ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি। তবে সংস্থাটি বলেছে, বাছাই করে ম্যাচে অংশগ্রহণ করা কোনও বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও জাতীয় নীতিতে সরকারের ভূমিকার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছে, তবু এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইসিসি।

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর