লিটন-সাইফের ব্যাটে উড়ে গেল তরুণদের দুরন্ত একাদশ
অভিজ্ঞতা এবং পারফরম্যান্সের দিক থেকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ধূমকেতুর চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে তরুণদের দুরন্ত দল। তবে আগে ব্যাটিং করে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন আকবর আলীরা। মিরপুরের উইকেট বিচারে দলটির ১৪৩ রানকেও খাটো করে দেখার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বল হাতে সেই লড়াইটা আর জারি রাখতে পারলেন না তরুণরা। লিটন দাস ও সাইফ হাসানের মুন্সিয়ানা ব্যাটিংয়ে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে অভিজ্ঞদের ধূমকেতু।
মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অদম্য কাপের প্রথম ম্যাচে আকবরের নেতৃত্বাধীন দুরন্ত একাদশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে লিটনের নেতৃত্বাধীন ধূমকেতু একাদশ। শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারের ১ বল আগে অলআউট হয়ে ১৪৩ রান করে দুরন্ত। জবাব দিতে নেমে ২৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ধূমকেতু।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি। ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখতে অদম্য কাপের আয়োজন বিসিবির। উদ্দেশ্য ছিল ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দর্শকদের জন্যও কিছুটা আনন্দের খোরাকের যোগান দেওয়া। তবে টুর্নামেন্টের প্রথম দিন দর্শকদের মধ্যে তেমন উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়নি। শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন একাডেমির ক্রিকেটারদের জন্য ফ্রি টিকিটের ব্যবস্থা রেখেও গ্যালারির এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।
প্রাণহীন এমন ম্যাচে অবশ্য কিছুটা প্রাণের সঞ্চার করেছেন লিটন-সাইফ। ১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ৫৩ বলে তাদের ৭৮ রানের জুটিতে কিছুটা হলেও টিকিটের পয়সা উসুল করতে পেরেছেন সমর্থকরা। এই জুটিতেই জয়ের ভিত গড়ে যায় ধূমকেতুর। ৩ ছক্কা ও ৪ চারে ৩০ বলে ৫০ রান করে সাইফ যখন আউট হন দলের সংগ্রহ তখন ১১২। এর আগে ওপেনিংয়ে নেমে ৮ বলে ১৭ রান করেন তানজিদ হাসান তামিম।
সাইফের বিদায়ের পর ২০ রানের ব্যবধানে পারভেজ ইমন এবং তাওহীদ হৃদয়ের উইকেট হারায় ধূমকেতু। ২ বলের ব্যবধানে এই দুই ব্যাটারকে ফেরান মেহরব। তবে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান অধিনায়ক লিটন। ৪৩ বলে ৬৫ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন লিটন।
দুরন্তের হয়ে ৪ ওভার বোলিং করে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মেহরব।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৪৩ রান করে দুরন্ত। অবশ্য ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল সম্ভাবনাময়। ওপেনিংয়ে মাহফিজুল রবিন এবং জিসান আলম মিলে গড়েন ৩১ রানের জুটি। জিসানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তানজিম হাসান সাকিব।
দ্বিতীয় উইকেটে আজিজুল হাকিমকে নিয়ে ৩৬ রানের জুটি গড়েন রবিন। তবে এই জুটিতে রান এগিয়েছে ধীরগতিতে। ৩৭ বলে গড়া ৩৬ রানের এই জুটি ভাঙে আজিজুল হাকিম তামিমের বিদায়ে। ৩৬ বলে ৩৯ রান করে রবিন ফেরেন দলীয় ৭৫ রানে। ২ রানের ব্যবধানে ফেরেন আরিফুল ইসলামও।
আকবর আলী এবং এসএম মেহরবরা ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১ চার ও ১ ছক্কায় ১০ বলে ১৮ রান করেন অধিনায়ক আকবর, সমান বলে মেহরব করেন ১৫ রান। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও হাল ধরতে পারেননি।
ভালো শুরু পেয়েও এক পর্যায়ে ১১৭ রানে ৭ উইকেট হারায় দুরন্ত। তবে সেখান থেকে স্কোরটা ১৪৩ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কাজটা করেছেন জাওয়াদ আবরার এবং আব্দুল গফফার সাকলাইন। ১৯ বলে ২৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তারা।
এদিন ৮ নম্বরে নেমে অনন্য এক রেকর্ডের মালিক হয়েছেন আবরার। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, এবারের অদম্য টুর্নামেন্টেই প্রথমবার এই ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড়ের নিয়ম প্রচলন হয়েছে। আবরার ৮ বলে ১০ এবং সাকলাইন ১৫ বলে ১৫ রান করেন। দুরন্তের ইনিংস থামে ১ বল বাকি থাকতেই।
৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ হোসেন। তানজিম সাকিব এবং শরিফুল ইসলামও নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: