[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখলো ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৩ পিএম

স্বপ্নটা পূরণ হলো না এবারও, ছুঁয়ে দেখা হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফিটা। সেই ২০২১ সালে প্রথমবার ফাইনাল খেলেছিল নিউজিল্যান্ড, সেবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর এবার দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া হয়ে গেলো, এবার স্বপ্নভঙ্গ হলো ভারতের বিপক্ষে।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রোববার (৮ মার্চ) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতাই গড়ে তুলতে পারেনি কিউইরা। স্বাগতিকদের ছুঁড়ে দেয়া ২৫৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে মাত্র ১৫৯ রানে। আর তাতেই ৯৬ রানের বিশাল জয়ে রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। আর প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার রেকর্ডও গড়লো টিম ইন্ডিয়া।

রোববার (৮ মার্চ) টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষাণ। দুজনের উদ্বোধনী ‍জুটি থেকে আসে ৯৮ রান। ২১ বলে ৫২ রান করে অভিষেক শার্মা ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর ঈশান কিষাণের ২৫ বলে ৫৪, স্যামসনের ৪৬ বলে ৮৯ রান ও দুবের ৮ বলে ২৬ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ফাইনালে এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আর একটাও নেই। তাই জিততে হলে নিউজিল্যান্ডকে করতে হতো রেকর্ড।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এর আগে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল মারলন স্যামুয়েলস-এর। আজকের ম্যাচে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন। ২০১৬ সালের ফাইনালে ইডেন গার্ডেনসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৫ রান করেছিলেন স্যামুয়েলস। ২০২১ সালের ফাইনালে কেইন উইলিয়ামসও করেছিলেন ৮৫ রান। আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ ৮৯ রানের ইনিংস খেলে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন।

২৫৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরুর আভাস দিয়েছিলেন দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। তবে অক্ষর প্যাটেলকে ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে তিলক ভার্মার হাতে ধরা পড়েন অ্যালেন, দলীয় রান তখন ৩১। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি রাচিন বরীন্দ্র। দলের বিপদ বাড়িয়ে ফেরেন ২ বলে ১ রান করে। দলীয় ৪৭ রানে ফেরেন গ্লেন ফিলিপস। ৫ বলে ৫ রান করে বোল্ড হন অক্ষর প্যাটেলের বলে। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

দলের বিপদের সময় হাল ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্ক চ্যাপম্যানও। ৮ বল খেলে মাত্র ৩ রান করেই সাজঘরে ফিরেছেন হার্দিক পান্ডিয়ার বলে বোল্ড আউট হয়ে। এরপর আর টিকতে পারেননি টিম সেইফার্টও। ২৬ বলে ৫২ রান করা এই ওপেনারকে থামান বরুণ চক্রবর্তী। ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড রান তোলে ৮৮। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মিচেল স্যান্টনারকে সাথে নিয়ে ২৮ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন ড্যারিল মিচেল। ১১ বলে ১৭ রান করে মিচেল ফিরলে ভাঙে এই জুটি। অক্ষর প্যাটেলের বলে ঈশান কিষাণের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরে মিচেল, দলীয় রান তখন ১২৪।

জিমি নিশাম থামেন দলীয় ১৪১ রানের মাথায়। বুমরাহর বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ৮ রান। পরের বলেই ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করেন এই পেসার।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর