আমি নিজেকে কোনো ব্র্যান্ড মনে করি না: নাহিদ রানা
১৪০ কিলোমিটার গতির শর্ট বলের সামনে একের পর এক বিভ্রান্ত হয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটাররা। নাহিদ রানার টানা ৭ ওভারের বিধ্বংসী বোলিংয়ে গুঁড়িয়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।
এর আগে ৫ ম্যাচে যেখানে তার উইকেট ছিল ৫টি, সেখানে এক ম্যাচেই তুলে নেন ৫ উইকেট। দুর্দান্ত এই বোলিংয়ের পর তরুণ এই পেসার জানালেন, তিনি এমন পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান।
যেকোনো পেসারের জন্যই ৫ উইকেটের মাইলফলক বিশেষ অর্জন। তবে নাহিদ এটিকে খুব বড় কিছু হিসেবে দেখছেন না। তার লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করা। তিনি বলেন, ‘না, বিশেষ কিছু না।
চেষ্টা করব যাতে এই জিনিসটা (ভালো পারফরম্যান্স) দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে পারি।’
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে খুব বেশি গতিময় পেসার দেখা যায়নি। একসময় গতির ঝড় তুলেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার গতিতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের মনে ত্রাস ছড়াতো।
সবাই তাকে ডাকতেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে। বিশ্ব ক্রিকেটে শোয়েব আখতার পরিচিত ছিলেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ নামে। নাহিদ যেভাবে গতির ঝড় তুলছেন, তারও একটি ব্র্যান্ড নাম হওয়া উচিত; এমন মত অনেকের। ক্রিকেটভক্তদের কেউ কেউ তাকে ‘চাপাই এক্সপ্রেস’ বলেও ডাকছেন। তবে নাহিদ নিজেকে কোনো ব্র্যান্ড মনে করেন না।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে কোনো ব্র্যান্ড মনে করি না। আমি মনে করি আমি একজন সাধারণ মানুষ এবং চেষ্টা করি ভালো পারফরম্যান্স দিতে।’
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেওয়ার পেছনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ফিজ (মোস্তাফিজুর রহমান) ভাই এবং তাসকিন ভাই বোলিং করছিলেন। আমি তাদের সঙ্গে মাঠে কথা বলছিলাম, জানতে চাচ্ছিলাম উইকেটে কী হচ্ছে। তারা বলল, যদি নির্দিষ্ট জায়গায় লাইন ও লেন্থ ঠিক রেখে বল করা যায়, তাহলে ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলা কঠিন হয়ে যাবে। আমি শুধু সেটা মাঠে কার্যকর করার চেষ্টা করেছি।’
ওয়ানডে ক্রিকেটে গতিময় পেসার হিসেবে টানা ৭ ওভার বোলিং করার ঘটনা খুবই বিরল। সেই বিরল কাজটিই করেছেন নাহিদ। অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, সেটিও জানিয়েছেন তিনি।
‘আমি সবসময় টিমের জন্য ভাবি এবং দেখার চেষ্টা করি দল কী চায়। সেই অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তখন আমি ভাবছিলাম কীভাবে উইকেটকে কাজে লাগিয়ে ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলা কঠিন করা যায়। সেই চেষ্টা দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। হয়তো সেই কারণেই অধিনায়ক ভেবেছিলেন আমাকে আরও দুই-তিন ওভার করানো যায় কি না।’
৭ ওভারে ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন নাহিদ। তবে তার কাছে সবগুলো উইকেটই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে প্রতিটি উইকেটই স্পেশাল। ভালো বা খারাপ দিয়ে আমি ক্রিকেটকে মাপি না। আমার ভাবনা থাকে, উইকেটটা কী চাচ্ছে সেটা বোঝা এবং সেই অনুযায়ী বোলিং করা।’
তাসকিন আহমেদ এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে দুইবার ৫ উইকেট নিয়েছেন। নাহিদ যখন ৫ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন, তখন সবচেয়ে খুশি ছিলেন তাসকিন। সে প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন,
‘আমরা ভাই-ব্রাদারের মতো একটি দল। মাঠে যতটা হাসি–খুশি থাকি, মাঠের বাইরে তার চেয়েও বেশি। এই বন্ধুত্বটাই আমাদের মাঠে অনেক সাহায্য করে। আমরা একে অন্যকে সবসময় উৎসাহ দিই। যদি আমি কিছু ভুল করি, তারা ধরিয়ে দেয় এবং অনুশীলনে সবসময় নতুন কিছু শেখাতে সাহায্য করে। তাই মাঠে কিছু ঠিকমতো করতে না পারলে তারা এসে বলে কী করতে হবে, আর আমি সেটা মাঠে কার্যকর করার চেষ্টা করি।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: