অভিষেকেই রিশাদের পিন্ডিজকে হারাল শরিফুলের জালমি
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) এবার বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। চলমান আসরে একসঙ্গে মোট ছয়জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যেই আজ শনিবার (২৮ মার্চ) অভিষেক হলো বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের, যিনি পেশোয়ার জালমির হয়ে প্রথমবার মাঠে নামেন।
তৃতীয় ম্যাচে পেশোয়ার জালমি ও রাওয়ালপিন্ডির মধ্যকার এই লড়াইয়ে দুই দলে ছিলেন দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার। পেশোয়ারের হয়ে একাদশে জায়গা পান শরিফুল ইসলাম, আর রাওয়ালপিন্ডির হয়ে খেলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ফলে একই ম্যাচে দুই দেশের দুই ভিন্ন দলের হয়ে মাঠে দেখা যায় দুই বাংলাদেশিকে, যা ম্যাচটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় রাওয়ালপিন্ডি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে তারা। অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ওপেনার ইয়াসির খানের ঝড়ো ইনিংসে পাওয়ারপ্লেতেই আসে দ্রুত রান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ২১৪ রানের শক্ত পুঁজি দাঁড় করায় পিন্ডিজ।
রান তাড়ায় নেমে পেশোয়ার জালমির বোলিং আক্রমণ শুরু করেন শরিফুল ইসলাম। অধিনায়ক বাবর আজম প্রথম ওভারেই বল তুলে দেন এই বাংলাদেশি পেসারের হাতে। শুরুটা নিয়ন্ত্রিত হলেও পুরো ম্যাচে তিনি ছিলেন মিশ্র পারফরম্যান্সে। প্রথম তিন ওভারে তুলনামূলকভাবে ভালো নিয়ন্ত্রণ দেখালেও শেষ ওভারে এসে কিছুটা ছন্দ হারান তিনি।
পুরো ম্যাচে শরিফুল ইসলাম ৪ ওভার বোলিং করে ৩১ রান খরচ করেন, তবে কোনো উইকেট নিতে পারেননি। প্রথম ওভারে দেন ৭ রান, দ্বিতীয় ওভারে ৮ রান এবং পাওয়ারপ্লের শেষ দিকে তৃতীয় ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে কার্যকর বোলিং করেন। তবে ১৯তম ওভারে নিজের শেষ ওভারে ১১ রান খরচ করেন, যেখানে একাধিক ওয়াইড ও একটি নো বলও আসে তার বোলিংয়ে।
অন্যদিকে, রাওয়ালপিন্ডির হয়ে খেলতে নামা রিশাদ হোসেন ছিলেন বেশ কার্যকর। শুরুতে উইকেট না পেলেও টাইট বোলিং করে চাপ তৈরি করেন তিনি। তৃতীয় ওভারে এসে তিনি তুলে নেন প্রথম উইকেট, ফেরান অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার অ্যারন হার্ডিকে। তবে শেষ ওভারে কিছুটা খরুচে বোলিং করলেও মোট ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেন এই লেগ স্পিনার।
পেশোয়ার জালমির হয়ে আরও দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম ও নাহিদ রানা এই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি। ফলে তাদের অভিষেকের অপেক্ষা আপাতত বাড়ল।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই দারুণ ব্যাটিং করেন পেশোয়ারের দুই ওপেনার বাবর আজম ও হারিস। তাদের ৭৮ রানের উদ্বোধনী জুটি দলকে শক্ত ভিত এনে দেয়। বাবর করেন ৩৯ রান এবং হারিস খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। পরে মাইকেল ব্রেসওয়েল ও আব্দুল সামাদের ক্যামিও ইনিংসে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পেশোয়ার জালমি।
শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয় পেশোয়ার জালমি, আর ম্যাচে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স নিয়ে তৈরি হয় ভিন্ন আলোচনা। শরিফুল অভিষেকে উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত শুরুর জন্য প্রশংসা পেলেও শেষ ওভারের খরুচে বোলিং কিছুটা প্রশ্নের জন্ম দেয়। অন্যদিকে রিশাদ হোসেনের উইকেটসহ কার্যকর বোলিং পিন্ডিজ শিবিরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: