টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি পেসারদের রাজা মুস্তাফিজ
বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান আবারও প্রমাণ করলেন, কেন তিনি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অন্যতম কার্যকর বোলার। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি এখন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।
মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজ নিজের মোট উইকেটসংখ্যা দাঁড় করান ৪১৬-এ। এই মাইলফলক স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন তার শৈশবের আদর্শ, পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আমিরকে। আমির যেখানে ৩৫৬ ম্যাচ খেলে ৪১৪ উইকেট নিয়েছেন, সেখানে মুস্তাফিজ মাত্র ৩২৫ ম্যাচেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছেন যা তার ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতারই প্রমাণ।
এই রেকর্ড গড়ার পথটাও ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। পিএসএল শুরুর আগে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন মুস্তাফিজ। তবে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই করাচি কিংসের বিপক্ষে ১ উইকেট নিয়ে তিনি ছাড়িয়ে যান আরেক পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজ-কে, যার উইকেটসংখ্যা ৪১৩। ২০২৩ সালের পর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে না থাকায় ওয়াহাবকে টপকাতে খুব বেশি সময় লাগেনি বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসারের।
তবে আমিরকে ছাড়িয়ে গেলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। পিএসএলের এবারের আসরে আমিরও খেলছেন রাওয়ালপিন্ডির হয়ে। এখন পর্যন্ত তিনি ২ ম্যাচে ২ উইকেট নিয়েছেন, অন্যদিকে মুস্তাফিজ ৩ ম্যাচে শিকার করেছেন ৪ উইকেট। ফলে টুর্নামেন্টজুড়ে এই দুই বাঁহাতি পেসারের লড়াই আরও জমে উঠার ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
মুস্তাফিজের এই ৪১৬ উইকেটের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রয়েছে ১৫৮টি উইকেট, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাকিব আল হাসান-কে ছাড়িয়ে এই রেকর্ড গড়েন। যদিও স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মোট উইকেটসংখ্যায় এখনো সাকিব এগিয়ে আছেন ৫০৭ উইকেট নিয়ে। তবে বয়স ও সাম্প্রতিক খেলার সুযোগ বিবেচনায় ভবিষ্যতে এই রেকর্ডও মুস্তাফিজের দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে উইকেট নেয়ার তালিকায় বর্তমানে সপ্তম স্থানে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তালিকার শীর্ষে আছেন আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খান, যার ঝুলিতে রয়েছে ৭০৩টি উইকেট।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি গর্বের মুহূর্ত। মুস্তাফিজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, এই দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে তিনি আর কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন এবং নতুন নতুন রেকর্ড নিজের নামে লেখাতে পারেন।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: