ইরান ফুটবল দলের হোটেলের সামনে থেকে মরদেহ উদ্ধার
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায় কঠোর নিরাপত্তায় অনুশীলন করছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
তবে দলটির বেস ক্যাম্প ও অনুশীলন ভেন্যুর ঠিক সামনেই ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। হোটেলের অদূরে একটি পরিত্যক্ত গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে এক ব্যক্তির পচনশীল মরদেহ উদ্ধার করেছে মেক্সিকান পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপ দলগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরান দল বর্তমানে মেক্সিকোর তিহুয়ানার ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থান করছে। হোটেলের ঠিক কাছেই অবস্থিত কালিয়েন্তে স্টেডিয়াম, যেখানে প্রতিদিন নিয়ম করে প্র্যাকটিস সেশন সারছেন ইরানি ফুটবলাররা। স্টেডিয়ামের ঠিক উল্টো দিকে একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লটে গত বুধবার থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার নম্বরপ্লেট–সংবলিত একটি ধূসর রঙের টয়োটা এসইউভি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিহুয়ানায় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানো এবং তীব্র রোদের কারণে গাড়িটি থেকে দ্রুত দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। গত শুক্রবার (১২ জুন) তীব্র দুর্গন্ধের সূত্র ধরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে গাড়িটির পেছনের ডালা (ট্রাঙ্ক) খুললে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো মরদেহটি বেরিয়ে আসে।
ঘটনাস্থলে থাকা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এবং ইয়াহু নিউজের তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত মরদেহে স্পষ্ট আঘাত এবং সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিহুয়ানা প্রসিকিউটর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ‘গাড়িটি তল্লাশি করে ট্রাঙ্কের ভেতরে কালো ব্যাগে মোড়ানো এক ব্যক্তির মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহে সহিংসতার চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি বুধবার থেকেই সেখানে পরিত্যক্ত ছিল।’
সাদা সুরক্ষামূলক পোশাক (পিপিই) পরা অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞরা গাড়িটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সরিয়ে নেন। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই মরদেহটি সরিয়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট পরেই কড়া পাহারায় ইরান দল স্টেডিয়াম ত্যাগ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং প্রস্তুতি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শুরুতে দলটির অফিসিয়াল অনুশীলন ক্যাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান বৈরিতার কারণে শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় বেস ক্যাম্প স্থানান্তর করতে বাধ্য হয় ইরান ফুটবল দল।
মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী মাদক চক্রের (কার্টেল) সহিংসতায় ভুগছে এবং দেশটিতে হত্যার হার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী তিহুয়ানা শহরটি অপরাধের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরই সেখানে ১ হাজার ২০০টির বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পর থেকেই ইরান দলকে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে। সশস্ত্র সেনাদের পাহারায় দলটিকে হোটেল ও স্টেডিয়ামের মধ্যে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। তবে খেলোয়াড়দের ক্যাম্পের এত কাছাকাছি এমন সহিংস হত্যাকাণ্ডের আলামত মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ফুটবলারদের মানসিক সুরক্ষার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিল।
ঘটনাটি নিয়ে মেক্সিকান পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: