ফুটবলে কুসংস্কার, কাকতালীয় ঘটনা আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। বড় টুর্নামেন্ট এলেই অতীতের নানা ঘটনার সঙ্গে বর্তমানের মিল খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সমর্থকেরা। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও স্পেনকে ঘিরে তেমনই এক আলোচনা জোরালো হয়েছে।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ১৬ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই অভিযানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিস্ময়কর মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর কোনোটি অবশ্যই মাঠের ফল নির্ধারণ করে না, তবে সমর্থকদের কাছে এগুলো নতুন করে আশার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
১. উদ্বোধনী ম্যাচে একই দুই দল, একই তারিখ
২০১০ বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর ম্যাচ দিয়ে। অবিশ্বাস্যভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপও শুরু হয়েছে ১১ জুন, আর উদ্বোধনী ম্যাচেও ছিল একই দুই দল। শুধু স্বাগতিক ও প্রতিপক্ষের অবস্থান বদলেছে।
২. আবারও ‘গ্রুপ এইচ’-এ স্পেন
২০১০ সালে স্পেন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল ‘গ্রুপ এইচ’ থেকে। ২০২৬ সালেও ড্রয়ে তাদের জায়গা হয়েছে একই গ্রুপে। এটিকে অনেকেই শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
৩. ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আগে স্পেন ছিল ২০০৮ ইউরো চ্যাম্পিয়ন। এবারও তারা বিশ্বকাপে এসেছে ইউরোপের সেরা দল হিসেবে, কারণ ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে লা রোহা।
৪. বিশ্বকাপের বছরেই রিয়াল মাদ্রিদে হোসে মরিনহো
২০১০ সালে বিশ্বকাপের বছরেই রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন হোসে মরিনহো। কাকতালীয়ভাবে ২০২৬ সালেও বিশ্বকাপের বছরেই আবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরেছেন এই পর্তুগিজ কোচ।
৫. শেষ ষোলোতে আবারও ১-০ গোলে পর্তুগালকে হারানো
২০১০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ডেভিড ভিয়ার একমাত্র গোলে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেন। ২০২৬ সালেও একই পর্যায়ে দুই দলের দেখা হয় এবং ফলাফলও একই—১-০ ব্যবধানে স্পেনের জয়।
৬. আবারও বার্সেলোনা-নির্ভর স্প্যানিশ দল
২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলে বার্সেলোনার আটজন খেলোয়াড় ছিলেন। ২০২৬ সালের স্প্যানিশ স্কোয়াডেও বার্সেলোনার প্রতিনিধিত্ব করছেন আটজন—জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পাউ কুবারসি, গাভি, পেদ্রি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস ও লামিনে ইয়ামাল। দুই দলই অনেকটা বার্সেলোনার ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে।
৭. বিশ্বকাপে আবারও শাকিরার উপস্থিতি
২০১০ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সংগীত ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় গান। ২০২৬ আসরেও নতুন গান ‘দাই দাই’ নিয়ে ফিরেছেন শাকিরা। ফলে অনেক সমর্থকের কাছে এটিও ২০১০ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার আরেকটি কাকতালীয় ঘটনা।
অবশ্য ফুটবলে কাকতালীয় ঘটনা কিংবা পরিসংখ্যান কখনোই ট্রফি জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশ্বকাপ জিততে হলে মাঠের ৯০ কিংবা ১২০ মিনিটে সেরা পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় বিষয়। তবু ২০১০ সালের সঙ্গে ২০২৬-এর এই সাতটি মিল স্পেন সমর্থকদের মনে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ইতিহাস কি সত্যিই নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে, নাকি সব কাকতালীয়তাকে মিথ্যা প্রমাণ করে নতুন চ্যাম্পিয়নের জন্ম হয়।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: