[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘আমরা গর্বিত, অনুপ্রাণিত, দারুন অনুভূতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৬:০৩ পিএম

সবার হাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া চেক। চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। একে অন্যকে জড়িয়ে ছবি তুলছেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল কথাও বলছেন।

অবশ্য এমন আনন্দের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে চ্যালেঞ্জও। সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মাসিক এক লাখ টাকার ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড পেয়ে এমন উচ্ছ্বাস লাল সবুজের ক্রীড়াবিদদের। গত বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গণ থেকে পদক জিতে আসা ১২৯ ক্রীড়াবিদের হাতে ভাতা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ভাতা পেয়ে আনন্দের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও মনে করছেন জাতীয় নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তার কথা, ‘এটা অনেক গর্বের একটি মূহূর্ত। ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রীকে। আমাদের অনেক ক্রীড়াবিদের জন্য সারপ্রাইজ ছিল এই মাসিক ভাতা। খেলোয়াড়রা এখন চোখ বন্ধ করে খেলাকে পেশা হিসাবে নিতে পারবে। আমার কাছে মনে হয়েছে, এতে খেলোয়াড়দের খেলার চাহিদা অনেক বেড়ে যেবে। যারা যখন দেখবে ভাল অর্থনৈতিক সাপোর্ট পাবে, তখন পারফরম্যান্সের অনেক উন্নতি হবে। যা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং।’

ভাতা পেয়ে আনন্দে উদ্বেল পদকজয়ী শাটলার আল আমিন। তার কথা, ‘ধন্যবাদ জানই প্রধানমন্ত্রী তারক রহমান স্যারকে, এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আমরা অনেক খুশী। ক্রীড়াবিদদের আরও ভাল করার চিন্তা করবে বিদেশে মাটিতে। সবাই এখন খেলাধূলায় আসতে চাইবে। এখান থেকে আমরা ভবিষ্যত তৈরী করতে পারব। আমার জুনিয়র যে আছে সে ভাল খেলে আমার জায়গায় আসতে চেষ্টা করবে।’

আরেক শাটলার উর্মি আক্তারের কথা, ‘আমরা গর্বিত, অনুপ্রাণিত। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে মাসিক ভাতা নেওয়া এক দারুণ অনুভূতি, যা বলে বুঝানো সম্ভব নয়।’ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রুপা জয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় খই খই মারমা বলেন, ‘কখনো ভাবতে পারিনি, মাসে এক লাখ টাকা করে পাবো। এটা সব ক্রীড়াবিদের জন্যই খুশীর ব্যাপার। এই ভাতা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে চারমাস পর পর পরিবর্তন হবে। তাই ক্রীড়াবিদদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরী হবে। তাই চ্যালেঞ্জটা আমরা পজিটিভ ভাবেই নিতে চাই। আমি সব সময়ই চেষ্টা করছি দেশকে ভাল কিছু দেওয়ার। এই চ্যালেঞ্জটা আমাদের জন্য কঠিন হবে। যারা নতুন তাদের জন্যও খুবই ভাল হবে।’

দুবাইয়ে এশিয়ান ইয়ুথ প্যারা গেমসের স্বর্ণ জেতা সাঁতারু মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতো প্যারা অ্যাথলেটদের দু:খ-কষ্ট বুঝতে পেরেছেন। স্বাভাবিক মানুষদের চেয়ে আমরা অনেক বেশি কষ্ট করি। দেশের জন্য আমরা কষ্ট করেছি। সরকারও আমাদের সহযোগিতা করছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদরা আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হবে। ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি অব বাংলাদেশের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের মাসিক এক লাখ টাকা করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের অভূতপূর্ব এক সিদ্ধান্ত। এতে ক্রীড়াবিদরা অনুপ্রেরনা পাবে। তারা আরও পদক জিততে উৎসাহিত হবে।’ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক রাসেল কবিরের কথা, ‘ক্রীড়াবিদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ সত্যিই অনেক বড় বিষয়। এতে ক্রীড়াবিদরা সামনের দিকে আরও এগিয়ে যাবে।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর