কমলাপুর স্টেডিয়ামে পরিদর্শন করে ক্ষোভ ঝাড়লেন প্রতিমন্ত্রী
রোববার দুপুরে স্টেডিয়ামটি আকস্মিক পরিদর্শনে এমে জরাজীর্ণ অবস্থা ও চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন।
দুপুুর একটা। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আগেভাগেই হাজির জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা। কৃত্রিম মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাগজ পরিষ্কারে ব্যস্ত পরিছন্ন কর্মীরা। উৎসুক মিডিয়া কর্মীরাও উপস্থিত হন। তবে দেড়টায় আসার কথা থাকলেও দুইটা ৩৪ মিনিটে স্টেডিয়ামে হাজির হন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। প্রথমেই তিনি স্টেডিয়ামের বাইরে দোকান ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষন করেন। পরে প্রবেশ করেন মাঠে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেণ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন, পরিচালক (ক্রীড়া) মো. আমিনুল এহসান, কমলাপুর স্টেডিয়ামের প্রশাসক মাসুদুর রহমান এবং প্রকৌশলীরা।
রোববার দুপুরে স্টেডিয়ামটি আকস্মিক পরিদর্শনে এমে জরাজীর্ণ অবস্থা ও চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী স্টেডিয়ামের গ্যালারি, ড্রেসিংরুম, ফ্লাডলাইট টাওয়ার ও চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। তিনি জানান, স্টেডিয়ামটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে এটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্লাডলাইটের অত্যন্ত মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও ব্লাস্ট চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা। একটি জাতীয় ক্রীড়া অবকাঠামোতে এমন নিরাপত্তাহীনতা মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)-এর নির্বাহী পরিচালককে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের অব্যবস্থাপনা শুধু অবহেলা নয়, এটি জাতীয় সম্পদের প্রতি দায়িত্বহীনতা। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম ও ভেতরের পরিবেশকে সম্পূর্ণ খেলার অনুপযুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়ামে এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্টাফরা টিনশেড ঘর বানিয়ে এখানে বসবাস করছেন-এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ আমিনুল হক বনেল, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-কে স্টেডিয়াম সংস্কারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ এছাড়াও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসাবে স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীর উঁচু, কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন এবং স্থানীয় মুগদা থানা-র সহায়তায় সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কমলাপুর স্টেডিয়ামকে খেলোয়াড়দের জন্য উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’ প্রতিমন্ত্রীর কথা, ‘এই স্টেডিয়াম শুধু একটি মাঠ নয়-এটি তরুণ প্রজšে§র স্বপ্নের জায়গা। আমরা এটিকে আবার প্রাণবন্ত করে তুলব।’
ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রশাসনিক শৈথিল্যের কারণে জাতীয় সম্পদের এই করুণ চিত্র তৈরি হয়েছে। এখন সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: