[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড পেলেন আরও ১৭১ ক্রীড়াবিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৪ পিএম

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে এবং ক্রীড়াবিদদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের চালু করা ‘ক্রীড়া ভাতা’ কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে ১৭১ জন খেলোয়াড়কে এই ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ সরকারের এই বিশেষ সুবিধার আওতায় এলেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৭১ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও এক লাখ টাকা করে ভাতা তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এই ধাপে সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের ৩৬ জন সদস্য।
ভাতা পাওয়ার পর নিজেদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় দলের তারকা ফুটবলাররা।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এনিয়ে ৩০০ জন এলেন ক্রীড়াভাতার আওতায়। পর্যায়ক্রমে ৫০০ জনে উন্নীত করা হবে এ সংখ্যা। চারমাস পরপর মূল্যায়ন করা হবে ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স। খারাপ করলে তালিকার বাইরে চলে যাবেন, ঢুকবেন নতুন কেউ। ক্রীড়াবিদদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরির জন্যই এ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে ক্রীড়া প্রশাসন।’

দ্বিতীয় দফায় ক্রীড়াভাতার আওতায় আনা হয়েছে ফুটবলার ছেলে ও মেয়ে ১৮ জন করে ৩৬ জন, বডি বিল্ডার দুজন, সাইক্লিস্ট চারজন, ভারোত্তোলক ১০ জন, জিমন্যাস্ট ৯ জন, হকির ছেলে ও মেয়ে ১৮ জন করে ৩৬ জন, দাবাড়ু ১১ জন, ‎ভলিবল খেলোয়াড় ১৪, আরচার ১১, ‎হ্যান্ডবল খেলোয়াড় ১০, ‎সাঁতারু ছয়জন, টেবিল টেনিস খেলোয়াড় পাঁছজন, শ্যুটার পাঁচজন, ‎‎উশুকা চারজন, ‎জুডোকা তিনজন, ‎কিকবক্সার দুজন, ‎টেনিস খেলোয়াড় দুই ও ‎ট্রায়াথলেট একজন।

পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস অন্তর এই ভাতার তালিকা হালনাগাদ করার যে নিয়ম করা হয়েছে, সেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তারা।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ।

তবে এখানে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, কারণ চার মাস পর পর তালিকা পরিবর্তন হবে। আপনি পারফরম্যান্স ভালো না করতে পারলে বাদ পড়ে যাবেন। ফলে সবার মনোযোগের স্তর আরও বাড়বে। এই ৫০০ জনকে দেখে আরও এক হাজার খেলোয়াড় উজ্জীবিত হবে, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
আরেক অভিজ্ঞ ফুটবলার সোহেল রানার কণ্ঠেও ছিল একই সুর। তিনি বলেন, ‘এটি খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ একটি অনুপ্রেরণা। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো পারফরম্যান্স। কেউ ভালো না করলে চার মাস পর এই কার্ডের আওতার বাইরে চলে যাবে। তাই এই স্বীকৃতি খেলোয়াড়দের ডিসিপ্লিন, লাইফস্টাইল এবং পারফরম্যান্সের দিকে আরও বেশি ফোকাসড হতে বাধ্য করবে।’

নারী দলের পক্ষে এই ভাতার প্রশংসা করার পাশাপাশি বাকি সতীর্থদের কথাও তুলে ধরেন জাতীয় দলের ফুটবলার আফঈদা-আলপি। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এত সুন্দর একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে আমাদের দলের আরও অনেক মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে খেলার মধ্যে রয়েছে, পর্যায়ক্রমে তাদেরও যেন ক্রীড়া ভাতা ও কার্ডের আওতায় আনা হয়, সেই বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ফুটবলারদের পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপে ভাতার আওতায় এসেছে প্রথমবারের মতো গঠিত জাতীয় নারী হকি দলও। এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে অংশ নিতে আজ রাতেই ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে দলটি।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করা তরুণ প্রতিভাদেরও মূল্যায়ন করা হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান আঞ্চলিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের বালক দ্বৈতে স্বর্ণপদক জেতা সিফাত উল্লাহ ও নাজমুল ইসলামকেও এক লাখ টাকা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই মাসিক ভাতার আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২৯ জন খেলোয়াড়ের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর