এক রাত, চার স্বপ্ন: মেসির সামনে গোল্ডেন বুট, বিশ্বকাপ, গোল্ডেন বল আর নবম ব্যালন ডি’অর
লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারকে বর্ণনা করতে গেলে রেকর্ড, ট্রফি আর অবিশ্বাস্য সব অর্জনের গল্পই সামনে আসে। তবু ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে মনে হচ্ছে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়ের জন্য এখনও নতুন কিছু লেখা বাকি আছে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামার আগে মেসির সামনে দাঁড়িয়ে আছে একসঙ্গে চারটি স্বপ্ন—প্রথম বিশ্বকাপ গোল্ডেন বুট, তৃতীয় গোল্ডেন বল, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এবং রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর।
চল্লিশের দুয়ারে দাঁড়িয়েও ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে চলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। প্রতিটি ম্যাচে তিনি যেন নতুন করে প্রমাণ করছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপের ফাইনালটি শুধু একটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়, বরং মেসির কিংবদন্তিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ।
প্রথম গোল্ডেন বুটের অপেক্ষা
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেছেন। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আপাতত এগিয়ে আছেন ফরাসি তারকা।
তবে ফাইনালে দুটি গোল করতে পারলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন মেসি। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও কখনো গোল্ডেন বুট জেতা হয়নি তার। তাই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ারগুলোর একটিতে এই ট্রফিটি যোগ হওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।
তৃতীয় গোল্ডেন বলের হাতছানি
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন মেসি দুবার—২০১৪ ও ২০২২ সালে। ২০১৪ সালে ফাইনালে হারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল—দুটিই জিতেছিলেন।
এবারও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা ছিলেন তিনি। ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জিততে পারলে তৃতীয়বারের মতো গোল্ডেন বল জেতার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড় এর আগে তিনবার এই পুরস্কার জেতেননি।
দ্বিতীয় বিশ্বকাপের স্বপ্ন
২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়েছিলেন মেসি। চার বছর পর আবারও তিনি একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে।
স্পেনকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা যদি শিরোপা ধরে রাখতে পারে, তবে মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। টানা দুই বিশ্বকাপ জয় শুধু আর্জেন্টিনার জন্যই নয়, ব্যক্তিগতভাবেও তাকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের কাতারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।
নবম ব্যালন ডি’অরের পথে
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। এই পুরস্কার ইতোমধ্যে আটবার জিতেছেন মেসি, যা নিজেই একটি রেকর্ড।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের মূল্যায়ন পর্বে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা রাখবে। ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মায়ামির হয়ে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন তিনি।
গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৪৫ গোল করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে যদি ফাইনালেও নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারেন, তাহলে নবম ব্যালন ডি’অরের পথে তিনিই সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়ে উঠবেন।
ইতিহাসের আরেক সন্ধিক্ষণে
মেসির ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় রাত এসেছে। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে এই ফাইনালটি হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাতগুলোর একটি।
একটি ম্যাচ, একটি ট্রফি এবং চারটি সম্ভাব্য অর্জন—গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এবং নবম ব্যালন ডি’অর।
ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম তিনি অনেক আগেই অমর করে ফেলেছেন। তবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রাতটি হয়তো তার কিংবদন্তিকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়ে আসছে। এখন দেখার অপেক্ষা, মেসি কি আরেকবার ইতিহাসকে নিজের মতো করে লিখতে পারেন।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: