নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ, মাঠ ও আগামী নিয়ে রহমত মিয়া
পরবর্তী ম্যাচে আমাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে সে সব ভিডিও কোচিং স্টাফ এবং টিম ম্যানেজম্যান্টের কাছে আছে। আমরা রিকোভারী সেশন শেষ করে যখনই সময় পাবো তখনই তারা আমাদের জানাবে। আসলে আমাদের কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে আর কোথায় আরও উন্নতি করতে পারি সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দুই প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে নেপালের বিপক্ষে গোলশুন্য ড্র করেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। ম্যাচে আশানুরুপ তেমন পারফরম করতে পারেনি স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ার কাবরেরার শিষ্যরা। তবে এই খেলার মাধ্যমে নাকি পারফরম্যান্সের উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া। রোববার হোটেল লবিতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ফুটবলারই চেস্টা করে নিজেদের জায়গা থেকে মাঠে ভালো করার। আমরা এখানে আসার আগে যে অনুশীলন করেছিলাম তা মাঠে প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছি। যদিও ফলাফল নির্ভর করে ভাগ্যর উপর। আমরা চেস্টা করছি।তবে আমি মনে করি প্রত্যেক দলেরই উন্নতি করার সুযোগ থাকে প্রতিদিন।’
নেপালের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে কোন জায়গায় ভুগেছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রহমত মিয়ার কথা, ‘অবশ্যই আমাদের মুল দলের অনেকে নেই এটিই বেশি ভুগিয়েছে আমাদেরকে। তবে গেল চার-পাঁচ বছর ধরে দলের সঙ্গে যারা ছিল সবাইকেই পেয়েছি। তবে হামজা চৌধুরী, শামিত সোমদের অভাব অনুভব করেছি আমরা সবাই।’ তিনি যোগ করেন, ‘মুলত এই ম্যাচ কিংবা দেশে অনুশীলন ক্যাম্প সব কিছুর মুল লক্ষ্যই আগামী মাসে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে। ওই ম্যাচে কিভাবে ভালো করতে পারি এবং এখান থেকে যদি ভালো ফলাফল নিয়ে যেতে পারি এটা আমাদের জন্য উজ্জীবনের কাজ করবে।’
নেপাল এবং হংকং- এই দুই দলের ব্যাপারেও কথা বলেছেন রহমত মিয়া, ‘নেপাল কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে। ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। আসলে নেপালের বিপক্ষে তাদের ঘরের মাটিতে এসে খেলা সহজ নয়। যারা আগে এসেছে এবং খেলেছে তারা বলতে পারবে। কিন্তু আমি মনে করি আমাদের দল ভালো করছে এবং সামনেও ভালো করবে।’ নেপালের দশরথ স্টেডিয়াম নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন রহমত, ‘এই মাঠের অবস্থা ভালো না। বাইরে দেখে যেমনটা দেখা যায় ভেতরটা একেবারেই সেরকম নয়। মাঠ ভারী এবং ধীর গতির, বড় বড় ঘাস। পাশাপাশি পানিও দেওয়া থাকে না। সাধারণত আমরা দেশে যখন অনুশীলন করি তার আগে মাঠে পানি দিয়ে নিই। সব খানেই আমরা অনুশীলন বা ম্যাচের আগে পানি দিয়ে নিই মাঠ ভাল থাকার জন্য। দশরথের মাঠ এমনতিইে ভারী, তার সঙ্গে ঘাস বড় এবং পানিও দেওয়া না।’
মঙ্গলবার শেষ প্রীতি ম্যাচের আগে প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিতে চাইছে বাংলাদেশ। এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘ম্যাচে খেলে আসার পর রাতে এবং আজ (গতকাল) সকাল থেকে ট্রিটমেন্ট, রিকোভারী সেশন, সুইমিং, জিম এমন আলাদা আলাদা কিছু কাজ করেছি আমরা। এখন পর্যন্ত প্রথম ম্যাচের ফিডব্যাক দেওয়া হয়নি। এমনিতে আমাদের প্রতিটা ম্যাচ কিংবা অনুশীলনের ভিডিও থাকে। পরবর্তী ম্যাচে আমাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে সে সব ভিডিও কোচিং স্টাফ এবং টিম ম্যানেজম্যান্টের কাছে আছে। আমরা রিকোভারী সেশন শেষ করে যখনই সময় পাবো তখনই তারা আমাদের জানাবে। আসলে আমাদের কোথায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে আর কোথায় আরও উন্নতি করতে পারি সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
হামজার অভাবে দলের পারফরম্যান্সে ঘাটতি কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রহমত মিয়া বলেন, ‘আসলে আমরা সেরকমটা ভাবিনি। অবশ্যই হামজা দলে আসলে এটা আমাদের বুস্টআপ করে। তিনি থাকলে আমরা আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা পাই। যেহেতু এখানে হামজা নেই, তাই যারা আছে তাদের নিয়েই খেলতে হবে। আর মাঠের বিষয়ে বলতে গেলে, শেষ দিন আমরা যখন এই মাঠে অনুশীলন করেছিলাম, তার আগে বৃষ্টি হয়েছিল। তাই আমাদের বলও ঠিকমতো যাচ্ছিল না।’
হংকং ম্যাচের আগে এই সময়টা কাজে লাগানোর বিষয়ে পরিকল্পনা হচ্ছে বলেও জানান এই ডিফেন্ডার, ‘এখন আমাদের হংকং ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য সময় আছে এক মাসের বেশি। হামজা-শোমিত তারা সামর্থ্যবান, অল্প সময়ে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। আমার মনে হয়, কোচ ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ওই ম্যাচ নিয়ে আমাদের কি পরিকল্পনা তা তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আমার মনে হয়, কোনো খামতি থাকবে বা আমাদের দলের মধ্যে।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: