[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এএফসি এশিয়ন কাপ বাছাই

বাংলাদেশ-হংকং চায়না মুখোমুখি আগামীকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ২০:১০ পিএম

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৪৬ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে তা সম্ভব করতে পারবে কি ১৮৪ নম্বরে থাকা লাল সবুজের দলটি। তা জানা যাবে আর কয়েকঘণ্টা পরেই। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত আটটায় শুরু হবে ম্যাচটি। টি স্পোর্টস সরাসরি সম্প্রচর করবে।


এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হংকং চায়নার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ স্বাগতিক বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৪৬ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে তা সম্ভব করতে পারবে কি ১৮৪ নম্বরে থাকা লাল সবুজের দলটি। তা জানা যাবে আর কয়েকঘণ্টা পরেই। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত আটটায় শুরু হবে ম্যাচটি। টি স্পোর্টস সরাসরি সম্প্রচর করবে।


এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে এটি ঘরের মাঠে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। টইটুম্বুর স্টেডিয়াম পেয়েও সেই ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে হামজাÑশমিতরা। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ হংকং চায়না। যারা ‘সি’ গ্রুপের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে প্রতিপক্ষ যেমনই হোক এই ম্যাচে তিন পয়েন্টের নিশ্চয়তা দিয়েছেন হাভিয়ের কাবরেরা। হামজা শমিতরাও জয়ের কথা বলছেন। এসব ছাপিয়ে ম্যাচটি হয়ে উঠেছে দুই দেশের প্রবাসী ফুটবলারদের লড়াই।


আগের দিন রাতে ঢাকা এসেছেন বাংলাদেশ দলের কানাডা প্রবাসী ফুটবলার শমিত সোম। গতকালই প্রথবারের মতো দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন কানাডার কাভালরি এএফসিতে খেলা এই ফুটবলার। মাঠে নামার আগেই হংকংয়ের বিপক্ষে ভালো করার আশা করছেন শমিত। হামজা চৌধুরীও জোর দিয়েই হংকংয়ের বিপক্ষে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দলের আরো চার প্রবাসী ফুটবলার ফাহমিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী, জামাল ভূইয়ারাও জয়ের কথা বলছেন। তবে বাংলাদেশের এই ম্যাচে হংকংয়ে চেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হতে পারে ইনজুরি। এরিমধ্যে ইনজুরিতে ছিটকে পেয়েছেন দলের দুই ফরোয়ার্ড সুমন রেজা ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম। হালকা ইনজুরি নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ আল আমিন। গতকালের আগ পর্যন্ত বল নিয়ে অনুশীলই করতে পারেননি সিঙ্গাপুর ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা ডিফেন্ডার তপু বর্মন। এই দুই জনের আজ একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।


দেশিদের ছাপিয়ে দুই দেশের লড়াইটা বিদেশিরও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের দল লেস্টার সিটিতে খেলা হামজা চৌধুরীর লাল-সবুজের জার্সিতে এটি চতুর্থ ম্যাচ। দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবেন শমিত সোম। হংকংয়ের বিপক্ষে এ ম্যাচে আরেক প্রবাসীর অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি জায়ান আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই ডিফেন্ডার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলে সবার নজর কেড়ে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলের ৩০ জনের তালিকায়। অনেকেরই ধারণা তিনি চূড়ান্ত দলেও টিকে যাবেন। ইতালির ওলবিয়া কালসিও’র ফরোয়ার্ড ফাহামিদুল ইসলাম এরই মধ্যে জাতীয় দলে খেলেছেন ভুটান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। হামজা, শমিত, ফাহমিদুল, জামাল, জায়ান, তারিকদের মতো হংকং দলেও বেশকিছু প্রবাসী ফুটবলার আছেন। যাদের মধ্যে অন্তত ৫ ফুটবলার রয়েছেন যাঁদের জন্ম ব্রাজিলে। এর মধ্যে আলোচিত নাম দুদু। একসময় তাঁর নেতৃত্বে বয়সভিত্তিক অ-১৭ দলে খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। বলিভিয়া, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, ক্যামেরুন, জাপানি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদেরও রেখেছে হংকং। ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফের্নান্দো অগুস্তো। ২০২২ সাল থেকে হংকংয়ের জার্সিতে খেলছেন তিনি। ২৩ ম্যাচে খেলে একটি গোলও করেছেন এই লেফটব্যাক। বাংলাদেশের জন্য আতঙ্কের নাম হতে পারেন এভেরতন কামারগো। ২০২৩ সালে অভিষেক হওয়ার পর ১৯ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন এই উইঙ্গার। গত সেপ্টেম্বরে ফিজির বিপক্ষেও পেয়েছেন গোলের দেখা।


এটি হবে দুই দেশেরই বাছাইয়ের তৃতীয় ম্যাচ। প্রথম দুই ম্যাচে দুই দেশের হয়েছে দুই রকম ফলাফল। বাংলাদেশ কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। একটি ড্র করে আরেকটি হেরেছে। অন্যদিকে হংকং এক জয় এক ড্র’তে ঝুলিতে ভরেছে চার পয়েন্ট। ঢাকা থেকে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারলে এশিয়ান কাপে ওঠার দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাবে হংকং। টিকে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আগের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে যাওয়ার পরই বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান কাপের পথ কঠিন হয়ে গেছে। দুই ম্যাচে ৫ পয়েন্ট হারানোর পর আক্ষরিকভাবে লাল সবুজদের শেষ হয়ে গেছে বাছাই পর্ব টপকানোর সম্ভাবনা। কাগজ-কলমে যে সম্ভাবনাটুকু রয়েছে তা বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচ জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া যে কারণে এই ম্যাচটিকে উল্লেখ করেছেন ‘ডু অর ডাই’ হিসেবে। এখন দেখা যাক লড়াইয়ে জয় নিয়ে ফিরতে পারে কিনা বাংলাদেশ। নাকি এখানেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর