[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

`প্রত্যেক সন্তান চায় বাবা-মাকে গর্বিত করতে'

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:১১ পিএম

বাংলাদেশে এ নিয়ে চতুর্থবার দেশে এলেন হামজা চৌধুরী। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় রবি আজিয়েটার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে স্বাক্ষর করেন তিনি। সেখানেই দেখা মিলল— তাঁকে ঘিরে সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যমের আগ্রহ যেন এতটুকু কমেনি।

তেজগাঁওয়ে রবির ভবনে ঢুকতেই হামজাকে ঘিরে ধরেন উপস্থিত সাংবাদিকেরা। একে একে অনেকে মানুষই এগিয়ে আসনে হামজার সঙ্গে হাত মেলাতে, কেউ আসেন সেলফি তুলতে। এতো এতো ভিড়ের মধ্যেও কোনো বিরক্তির ছাপ নেই হামজার অভিব্যক্তিতে। মৃদু হাসিটা মুখে লেগেই ছিল যতক্ষণ ছিলেন।

প্রতিবার বাংলাদেশে এসে মানুষের এমন আগ্রহ ও ভালবাসায় অভিভূত হামজা। নিজেকে নিয়ে দেশের মানুষের এই ভালবাসা নিয়ে বলেন, 'আমি যে ভালোবাসা পাই, সেটা আমি খুব ভালোভাবে লালন করি। চেষ্টা করি সেই ভালোবাসা ও সমর্থনটা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে। এটা বারবার এখানে ফিরে আসার ইচ্ছে জাগায়। যখনই আমি বাংলাদেশ ছাড়ি, আমার বাচ্চারা বলে ওরা বাংলাদেশে ফিরতে চায়। ইনশাআল্লাহ, তাঁরা মার্চে আবার ফিরে আসবে।'

আগামী বছরের মার্চে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ খেলায় সিঙ্গাপুরকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। আর এ বছরের মার্চে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে অভিষেক হয় হামজা চৌধুরীর। ২৫ মার্চ ভারতের শিলংয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে এশিয়ান কাপ বাছাই প্রতিযোগিতা শুরু করে লাল সবুজের দল।

প্রতিযোগিতায় এরপর বাংলাদেশ ম্যাচ খেলে আরও তিনটি। মাঝে ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে সর্বমোট লাল সবুজের জার্সিতে হামজা খেলেন ৫ ম্যাচ।

বাংলাদেশের আরেকটি এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচ হবে আগামী ১৮ নভেম্বর। পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে ওই ম্যাচের আগে ১৩ নভেম্বর প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। দুটি ম্যাই হবে রাত ৮টায়।

ম্যাচ দুটি সামনে রেখে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেন হামজা। তেঁজগাওয়ে রবির অনুষ্ঠানে আজ এক প্রশ্নের উত্তরে হামজা বলেন, 'প্রত্যেক সন্তান চায় বাবা-মাকে গর্বিত করতে।' সেটা তিনি করেছেন অনেক আগেই। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। বর্তমানে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব লেস্টার সিটির অধিনায়ক বাংলাদেশের 'নম্বর এইট'।

সেই হামজা এখন বাংলাদেশের। তাঁর জন্যই দেশের ফুটবল ফিরে পেয়েছে হারানো গৌরব। সেটি কিছুটা হলেও বোঝা যায় যখন বাংলাদেশের কোনো একটা ম্যাচের সাধারণ গ্যালারির ১৮৩০০ টিকিট মাত্র ৩ মিনিটে বিক্রি হয়ে যায়।

ঝিমিয়ে পড়া ফুটবল আবার জেগে উঠেছে। ফুটবল নিয়ে মানুষ গর্ব করার মতো উপলক্ষ পেয়েছে। সেই গর্বের অলঙ্কার এক হামজা চৌধুরী। তিনি নিজেও কতুটুকু তা উপলব্ধি করেন জানতে চাইলে বলেন, 'এখনো সত্যি বলতে অবাস্তব মনে হয়। আমি শুধু চাই এই দেশের অংশ হতে, গর্ব করতে এবং যে কোনোভাবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে। বিশেষ করে আমার বাবা-মায়ের জন্য।'

বাংলাদেশে হামজার বাড়ি সিলেটের হবিগঞ্জের বাহুবলে। ঘরের টান উল্লেখ করে বলেন, 'আমার বাবা এই দেশেই জন্মেছেন এবং বড় হয়েছেন, তাই তাঁদের মুখে সেই হাসিটা দেখতে পাওয়াটাই আমার আসল প্রাপ্তি। প্রতিটি সন্তানই চায় তাঁর বাবা-মাকে গর্বিত করতে। আর আমি মনে করি আমি ভাগ্যবান যে আমি পুরো জাতিকেই গর্বিত করতে পারি।'

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর