আজারবাইজানের কাছে হারল বাংলাদেশ
ইউরোপের কোন দেশের সঙ্গে খেলার শখ মিটল বাংলাদেশের। তিন ম্যাচ সিরিজে ইউরোপের সেই আজারবাইজানই সেরা হল। আগের ম্যাচে মালয়েশিয়াকে তারা হারিয়েছিল। এবার তাদের শিকারে পরিণত হল স্বাগতিকরা। মঙ্গলবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আজারবাইজান। জয়ী দলের হয়ে জাফরজাদা ও মনিয়া এসরা একটি করে গোল করেন। স্বাগতিকদের হয়ে এক গোল শোধ দেন মারিয়া মান্দা।
এএফবি লাতিন বাংলা সুপার কাপে অংশ নিতে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ব্রাজিলের পঞ্চম স্তরের দল সাও বার্নার্দো ফুটবল ক্লাব। এএফ বক্সিং প্রোমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ঢাকায় আয়োজন করতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। ৫ ডিসেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে এই প্রতিযোগিতা। যেখানে অংশ নেবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের তিনটি দল। কাল দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেই সন্ধ্যা সাতটায় জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে আজারবাইজানের খেলা দেখতে মাঠে হাজির হন এই ক্লাবের ফুটবলাররা।
আজারবাইজানের র্যাংকিং ৭৪। বাংলাদেশের (১০৪) চেয়ে তারা ৩০ ধাপ এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ভালোই লড়েছে বাটলারের বাংলাদেশ। বিগত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও হাই-লাইন ডিফেন্স করেছেন আফিদারা। কয়েক বার আজারবাইজান বাংলাদেশের রক্ষণ ভেদ করলেও ডিফেন্ডাররা কাভারের চেষ্টা করেছেন। আবার কখনো অফসাইডের ফাদেও পড়েছে আজারবাইজান।
হামজা-জামালদের ম্যাচে স্টেডিয়ামে উপচে পড়া দর্শক থাকে। নারী দলের ম্যাচেও উল্লেখযোগ্য দর্শক উপস্থিতি হন। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ম্যাচে সব গ্যালারি খোলা ছিল। এই ম্যাচে শুধু পূর্ব গ্যালারি উন্মুক্ত রেখেছিল বাফুফে। প্রায় হাজার সাতেক দর্শক উপস্থিতি ছিল সব মিলিয়ে। দর্শকরা বাদ্য-যন্ত্র স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখেন।
২০ মিনিটে আজারবাইজান লিড নেয়। বানিয়া ইশরাকের ক্রস থেকে অধিনায়ক জাফরজাদা গোল করেন। ফুটবলে গোল মানেই উল্লাস-উৎসব। আজারবাইজান অধিনায়ক গোল করে কয়েক মিনিট কান্না করেন (১-০)। একটি সাদা কাপড়ে একজনের ছবি একে সবাই পোজ দেন। এরপরই চোখে মুখে কান্না অধিনায়কের। সতীর্থরা তাকে সামাল দেন। পরে জানা গেছে, ওই ছবি ছিল জাফরজাদার প্রয়াত মায়ের প্রতিকৃতি। তাই মাকে স্মরন করে কান্না করেন তিনি। পরে নিজের গোলটি মৃত মায়ের প্রতি উৎসর্গ করেন অধিনায়ক জাফরজাদা।
৩৪ মিনিটে মারিয়া মান্দার দুর্দান্ত গোলে বাংলাদেশ সমতা আনে। স্বপ্না রাণীর কর্ণার থেকে কয়েক পাক ঘুরে বক্সে বল পান মারিয়া। বাঁ পায়ে দুর্দান্ত সাইড ভলি করেন। গোললাইনে আজারবাইজানের ডিফেন্ডার লাফিয়েও বল ঠেকাতে পারেননি। গোলকিপার ও ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল জালে জড়ায় (১-১)। ম্যাচে সমতা আসার পর আজারবাইজান তাদের আক্রমণ অব্যাহত রাখে। বাংলাদেশের গোলকিপার রুপনাকে একা পেয়েও গোল করতে পারেনি প্রথমার্ধের শেষ দিকে। দ্বিতীয়ার্ধেও গোল পাওয়ার চেষ্টায় কোন ক্রুটি রাখেনি বাংলাদেশ। বার বার আক্রমন করেও দ্বিতীয় গোলের দেখা মেলেনি আফঈদাদের শিবিরে। বরং ৮৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় আজরবাইজানই। বাঁ প্রান্ত দিয়ে সতীর্থের ক্রসে আসা বলে ডান পায়ের আলতো শটে গোল করে আজারবাইজানকে ফের এগিয়ে দেন মনিয়া এসরা (২-১)। শেষে এই ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের দুটিতে জিতে শীর্ষেই থাকল আজারবাইজান। মালয়েশিয়া জিতেছে একটিতে স্বাগতিকদের সঙ্গে। বাংলাদেশ দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরেছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: