[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইতালির বিশ্বকাপ স্বপ্নে নতুন মোড়, যে সমীকরণে জেগে রয়েছে সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৪ পিএম

ইতালির ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপ মানেই গৌরব, ঐতিহ্য আর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি যাদের ‘আজ্জুরি’ নামে ডাকা হয় তাদের জন্য বিশ্বকাপের মঞ্চ যেন স্বাভাবিক জায়গা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই পরিচিত দৃশ্যটাই বদলে গেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে না ওঠার বেদনা এখন পুরো ইতালিজুড়ে এক ধরনের নীরব শোকের আবহ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ইতালির বিদায় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে। সেই পরাজয়ের পর থেকেই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর দরজা তাদের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধরে নেয়া হচ্ছিল। তবে ফুটবলের অনিশ্চয়তার এই খেলায় এখনো পুরোপুরি নিভে যায়নি আশার প্রদীপ যদিও তা অত্যন্ত ক্ষীণ, প্রায় অলৌকিক বললেই চলে।

এই নতুন সম্ভাবনার জন্ম মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘিরে। ইরান জাতীয় ফুটবল দল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে আগ্রহী নয়। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। ফিফা সভাপতির দাবি, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে।

এই দ্বন্দ্বপূর্ণ অবস্থানের মধ্যেই আলোচনায় এসেছে ফিফার নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোনো দল যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফার ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই জায়গা পূরণ করা হবে একটি ‘বিকল্প দল’ দিয়ে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে-অফের রানারআপ বা একই কনফেডারেশনের সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা কিন্তু কোয়ালিফাই করতে না পারা দল এই সুযোগ পায়।

এই হিসাব অনুযায়ী, এশিয়া অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম। কারণ তারা এশিয়ান প্লে-অফ পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ইরাক জাতীয় ফুটবল দলের কাছে তারা হেরে যায়। তাই নিয়ম অনুযায়ী ইরানের জায়গা পূরণে তারাই সবচেয়ে এগিয়ে।

তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ফিফার হাতে রয়েছে ‘স্বাধীন বিবেচনা’র ক্ষমতা, যার মাধ্যমে তারা ভিন্ন সিদ্ধান্তও নিতে পারে। আর সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছে আরেকটি আলোচিত, কিন্তু অত্যন্ত অনিশ্চিত সম্ভাবনা যদি ফিফা কনফেডারেশনভিত্তিক নিয়মের বাইরে গিয়ে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের দিকে নজর দেয়, তাহলে সুযোগ পেতে পারে ইতালি।

এই জল্পনার সূচনা করেছেন রেনে মিউলেনস্টিন, যিনি একসময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রিজার্ভ দলের কোচ ছিলেন এবং বর্তমানে ইরাক জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত মাসে টকস্পোর্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এএফসির হিসাব অনুযায়ী ইরানের জায়গায় ইরাকের যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর তাদের জায়গা পূরণে সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলতে পারে অন্য প্লে-অফ ম্যাচে।

তবে একইসঙ্গে তিনি আরেকটি গুঞ্জনের কথাও তুলে ধরেন তা হলো- ফিফা যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বড় নামটি হতে পারে ইতালি।

অবশ্য বাস্তবতা বলছে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ফিফার জন্য সহজ হবে না। এতে ইউরোপীয় একটি অতিরিক্ত দল বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে, যা অন্য কনফেডারেশনগুলোর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ইতালির সামনে যে সম্ভাবনাটি তৈরি হয়েছে, তা এখনো কেবল কাগজে-কলমে বাস্তবে রূপ নিতে হলে অনেক ‘যদি-কিন্তু’র সমীকরণ মেলাতে হবে।

সব মিলিয়ে, ইতালির বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখন এক ধরনের অনিশ্চিত অপেক্ষার মধ্যে ঝুলে আছে। ইতিহাসের অন্যতম সফল এই দলটি শেষ পর্যন্ত অলৌকিক কোনো সুযোগ পায় কিনা, নাকি আবারও দর্শক হিসেবেই থাকতে হয় তা নির্ধারণ করবে সময়, রাজনীতি এবং সবচেয়ে বড় কথা, ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর