[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফুটবল লিগে সার্কের কোটা কমাতো ফুটবলারদের আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৪ পিএম

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা চলছে এখনো। ময়দানী লড়াইয়ের মধ্যেই এবার আলোচনায় ফুটবলারদের আন্দোলন। বুধবার দুপুরে ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির ব্যানারে প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানীয় ফুটবলার বাফুফে ভবনে জড়ো হয়ে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন এবং দাবীর একটি স্মারকলিপি তুলে দেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনের কাছে।

মূলত ফুটবল লিগে সার্ক কোটা বাতিল বা পুনর্বিবেচনার দাবিতেই তাদের এই আন্দোলন।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি ক্লাবে সার্ক অঞ্চলের পাঁচজন এবং সার্কের বাইরের তিনজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি একাদশে একজন অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কাঠামোর ফলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সুযোগ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারী ফুটবলারদের। তাদের দাবি, বিদেশি ও সার্ক খেলোয়াড়ের আধিক্যে দেশীয় ফুটবলাররা পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে দেশের শীর্ষ দুই ক্লাব আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ছিল বেশি। যদিও এই দুই দলে বর্তমানে কোনো সার্ক অঞ্চলের ফুটবলার নেই, তবুও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

জানা গেছে, ফুটবলাদের দাবীর পেছনে ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাফল্যই বড় করে দেখা হয়েছে। কারণ ফেডারেশন কপের গ্রুপ পর্বে তারা আবাহনীকে টপকে শীর্ষে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক ম্যাচে পাকিস্তানি এক ফুটবলারের গোলে জয় তুলে নিয়ে তারা নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে। তাদের মতে, সার্ক অঞ্চলের খেলোয়াড়দের কার্যকর ব্যবহারই ব্রাদার্স ইউনিয়নের এই সাফল্যের অন্যতম কারণ।

ফুটবলারদের স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য বেশি সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, লিগে দলের সংখ্যা বাড়ানো, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি কোটা কমানো। ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্রধান সমন্বয়ক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘যৌক্তিক দাবী নিয়েই আমরা মাঠে নেমেছি। কারণ সার্ক কোটা না কমালে আমাদের ফুটবলারদের বেঞ্চে বসে থাকতে হবে। যা তাদের রুটি-রুজির উপর সরাসরি আঘাত। তাই আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছি।’ মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে বাংলাদেশের ফুটবল এখন মাঠ ও মাঠের বাইরের দ্বৈত লড়াইয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতে বাফুফে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর