মেয়েদের হকির উন্নয়নে হাত বাড়াল ব্র্যাক ব্যাংক
অ-১৮ এশিয়া কাপ হকিতে ব্রোঞ্জ জেতায় মেয়েদের প্রতি প্রত্যাশা বেড়েছে ফেডারেশনের। তাইতো নতুন উদ্যোমে মেয়েদের হকি উন্নতির জন্য কাজ শুরু করেছেন কর্তারা। যার অংশ হিসাবে মেয়েদের জন্য ফেডারেশন আলাদা একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে।
রোববার থেকে দেশের ১৮টি জেলা দলের অংশগ্রহনে চারটি জোনে শুরু হবে ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্ট। জোনগুলো হলো- রাজশাহী, ময়মনসিংহ, যশোর ও কুমিল্লা। জোন-১ এর ভেন্যু রাজশাহীতে খেলবে জয়পুরহাট, দিনাজপুর, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও ও রংপুর জেলা। জোন-২ এর ভেন্যু ময়মনসিংহে অংশ নেবে নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ। জোন-৩ এর ভেন্যু যশোরে লড়বে যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও পটুয়াখালী। আর জোন-৪ এর ভেন্যু কুমিল্লায় খেলবে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও সিলেট জেলা। প্রথম ধাপ শেষে প্রতিটি জোন থেকে একটি করে চ্যাম্পিয়ন দল নির্বাচিত হবে। ডিসেম্বরের শেষে হবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্ব, যেখানে চার জোনের সেরা দলগুলোর সঙ্গে বিকেএসপি যোগ দেবে ফাইনাল রাউন্ডে।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় আমরা নারী হকিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। এর আগেও তারা আমাদের উইমেনস ওপেন ডেভেলপমেন্ট কাপ টুর্নামেন্টে স্পন্সর করেছিল। এবার আরও বড় পরিসরে, আরও বেশি জেলা নিয়ে আয়োজন করছি। মেয়েরা এখন নিয়মিত খেলছে, আমরা চাই এই ধারাটা আরও শক্ত হোক।’ তিনি যোগ করেন, ‘প্রত্যেক জোনের দলগুলো চাইলে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে একটি করে শক্তিশালী দল গঠন করতে পারবে। লক্ষ্য একটাই- যত বেশি মেয়ে মাঠে নামবে, তত বেশি প্রতিযোগিতা বাড়বে, ততই খেলার মান উন্নত হবে।’
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য রয়েছে বিশেষ সরঞ্জাম ও উপহার- প্লেইং ড্রেস, লেগিংস, ট্র্যাকসুট, হকি স্টিক ব্যাগ, ব্যাকপ্যাকসহ সাতটি আইটেম দেওয়া হবে সবাইকে। রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের সমর্থন না থাকলে আমরা এত বড় পরিসরে আয়োজন করতে পারতাম না। নারী হকির উন্নয়নে তাদের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়।’ ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা একরাম কবির বলেন, ‘বছরের শুরুতে আমরা হকি ফেডারেশনের সঙ্গে একটি নারী টুর্নামেন্টে সহযোগিতা করেছিলাম। মেয়েরা দারুণ খেলেছিল। সেটাই আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে এবার আরও বড় কিছু করার।’
তিনি আরও বলেন, “ঐ টুর্নামেন্টের সাকসেসটা দেখে আমরা নিজেরাই হকি ফেডারেশনকে বলেছিলাম যে আপনাদের এই বছর, আগামী বছর আর কী কী প্ল্যান আছে, '২৫ সালে এবং '২৬ সালে আর কী কী প্ল্যান আছে? তখন হকি ফেডারেশন আমাদেরকে এই প্ল্যানটা দিলেন এবং এই প্ল্যানটা আমাদের যে সিএসআর-এর পলিসির সাথে খুব সুন্দর করে যায়। আমরা চাই যে মেয়েদের লেখাপড়া বাড়ুক, মেয়েদের খেলাধুলা বাড়ুক, এগুলো চাই এবং উই ফাউন্ড দিস হকি এবং হকীর জন্যে এই আমাদের হকি ফেডারেশনের যে প্রচেষ্টা, এইটাকে আমরা মনে করছি আমাদের সিএসআরের টাকা গুলো ব্যয় করার ইউনিক সুযোগ। আমরা বছরের প্রথমে ওটা স্পন্সরশিপ ছিল, এখন আমরা এটা আমাদের সিএসআর বাজেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছি এবং আমরা ৯৯ লাখ টাকা কনট্রিবিউট করছি।”
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: