[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

টিটির কোচেস ট্রেনিং কোর্সে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬ ১৭:০৬ পিএম

র‌্যাংকিং ও সিলেকশনে দল নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন (বিটিটিএফ)। এবার আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশন (আইটিটিএফ) ও পিটিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত লেভেল-১ কোচেস ট্রেনিং কোর্সে আর্থিক অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, গত ১৩ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন মোট ৩১ জন প্রশিক্ষণার্থী। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে আসেন ১০ জন এবং ঢাকার ২১ জন সাবেক খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কোর্স আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) টেবিল টেনিস ফেডারেশনকে প্রায় ৫ লাখ টাকা অনুদান দেয় বলে জানা গেছে। তবে ওই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন অংশগ্রহণকারী।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে পাঁচ দিনের জন্য ৫ হাজার টাকা হাতখরচ এবং খাবারের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি ঢাকার বাইরের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থাও করার কথা ছিল ফেডারেশনের। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মানস চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে থাকা, খাওয়া এবং কিছু অর্থ দিয়েছে ফেডারেশন। কিন্তু পরে আবার হোটেল ভাড়ার টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। আমি বিওএর দেওয়া অর্থের হিসাব জানতে চাইলে এ বিষয়ে আর কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।’ তার এই অভিযোগ নতুন করে আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কোর্সে বরাদ্দকৃত অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত সুবিধা পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আরেক প্রশিক্ষণার্থী ও সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জাভেদ আহমেদ। নড়াইলের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি। আসন্ন এশিয়ান গেমসের নির্বাচন সামনে থাকায় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাওয়ার জন্য ফেডারেশনের কাছে একটি হোটেল কক্ষের ব্যবস্থা চেয়েছিলেন বলে জানান।
জাভেদ বলেন, ‘আমার বাড়ি নড়াইলে হলেও আমি ঢাকায় থাকি। সামনে এশিয়ান গেমসের সিলেকশন রয়েছে। তাই ভেবেছিলাম, ট্রেনিং কোর্স চলাকালে একটি হোটেল রুম পেলে অনুশীলনের সুবিধা হবে। কিন্তু ফেডারেশন আমাকে সেই সুযোগ দেয়নি।’ আরেক সাবেক নারী চ্যাম্পিয়ন সোনম সুলতানা বলেন, ‘আমি একটি টি শার্ট, একটি সনদ ও পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছি। কিন্তু খাওয়ার জন্য কোন অর্থই দেয়নি আমাকে। আমি অনেক করে বলেছিলাম, যেহেতু ঢাকায় থাকা বাবদ যাওয়াত পাচ্ছি না, তাই খাওয়ার অর্থতো দেন।’

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক সনেট বলেন, ‘আমরা খাওয়ার জন্য ১ হাজার দুইশ’ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও কম দিতে পেরেছি। আবার অনেকের চাহিদাও পূরন করতে পারিনি। আসলে আমাদের দেওয়া অর্থ থেকেও কর দিতে হয়। তাই প্রাপ্ত অর্থের পরিমানও কম থাকে। তাই আমরা সবাইকে সমান সুযোগ দিতে পারিনি।’ তাহলে বিওএর দেওয়া পাঁচ লাখ টাকা কোথায় খরচা হল? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিওএর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা অর্থ দিয়েছি। তারা হিসাব দেওয়ার পর আমরা বুঝতে পারব কত টাকা খরচা হয়েছে এবং কত রয়েছে।’ ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশিক্ষণার্থীদের সাবই খাওয়া ও হাতখরচ পাওয়ার কথা। সেখানে কাউকে দিয়ে কাউকে দেয়নি। তাহলে বাকি টাকা কোথায় গেল? এটি তদন্ত করা উচিত বিওএর।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর