[email protected] রবিবার, ২৬শে জুলাই ২০২৬
১০ই শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজা চার্লসের উদ্বোধনে ৭৪ দেশের কুচকাওয়াজে শুরু কমনওয়েলথ গেমস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৭ এএম

জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হয়েছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস। শহরের বিখ্যাত ওভিও হাইড্রো অ্যারেনায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানী ক্যামিলা। উদ্বোধনী কুচকাওয়াজে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্কটল্যান্ডের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধুনিকতার অনন্য মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ডক্টর হু’-এর টাইম মেশিনের আদলে সাজানো এক অভিনব পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক নানা স্থানের প্রতীকী ভ্রমণ করানো হয়। লক নেস ও বালমোরাল ক্যাসেলের মতো পরিচিত নিদর্শন পেরিয়ে সেই আয়োজন এসে পৌঁছায় গ্লাসগোর হাইড্রো অ্যারেনায়।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি সাইক্লিস্ট স্যার ক্রিস হয় ও স্কটিশ অভিনেতা অ্যালান কামিং। তাদের হাত ধরেই মঞ্চে আসেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানী ক্যামিলা।

এবারের গেমসের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইতিহাসের দীর্ঘতম ব্যাটন রিলে। প্রায় ৫০০ দিন ধরে চলা এই রিলে গ্লাসগোতে এসে শেষ হয়। এরপর ব্যাটন হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা।

শিল্পনির্দেশক অ্যামেলি হোয়াইটের পরিকল্পনায় হাইড্রো অ্যারেনা রূপ নেয় ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্যমান এক বিশাল জীবন্ত ক্যানভাসে। আলো, লেজার, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্কটিশ সেল্টিক সংগীতের সমন্বয়ে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এরপর একে একে অংশ নেয় ৭৪টি দেশের অ্যাথলেট দল। মার্চপাস্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সামনে লাল-সবুজের পতাকা বহন করেন সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি।

প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্বোধনী আয়োজনে নৃত্য, সংগীত ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় স্কটল্যান্ডের লোককাহিনি, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। দর্শকদের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে লক নেস মনস্টার ও ইউনিকর্নের মতো প্রতীকী চরিত্র। সংগীত পরিবেশন করেন ক্যালাম বিটি, নিনা নেসবিটসহ দেশটির জনপ্রিয় শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্যে ছিল ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান। শেষ পর্বে বক্তব্য দেন রাজা তৃতীয় চার্লস। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর অ্যাথলেটদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, গেমসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও গ্লাসগো পিছিয়ে যায়নি। ‘আমরা পারব কি না’—এই প্রশ্নের বদলে ‘কখন শুরু করব’—এই লক্ষ্যেই শহরটি কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২০১৪ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করেছিল গ্লাসগো। এবার দ্বিতীয়বারের মতো শহরটি এই আসরের আয়োজক হলেও স্কটল্যান্ডে এটি চতুর্থ কমনওয়েলথ গেমস। এবারের আসরে ১০টি মূল ডিসিপ্লিনের পাশাপাশি ছয়টি প্যারা স্পোর্টসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিন হাজারের বেশি অ্যাথলেট। চারটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন ইভেন্ট। মোট ২১৫টি স্বর্ণপদকের জন্য লড়বেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর ক্রীড়াবিদেরা।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর