অমিত মজুমদার ও রেজওয়ানের বিরুদ্ধে রয়েছেন আইপিএলেও বেটিংয়ের প্রমাণ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ইন্টেগ্রিটি ইউনিট আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোডের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগে চারজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে যুক্ত থাকা সামিনুর রহমানকে বেটিং সংক্রান্ত কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্রিকইনফো
বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার লাবলুর রহমান ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিক এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-মালিক তৌহিদুল হককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে বেটিং-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব গ্রহণ, আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী কোডের আর্টিকেল ৪.৩ অনুযায়ী দেয়া নির্দেশনা না মানা, প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ লুকানো বা মুছে ফেলা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তাদের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তারা অভিযোগ পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে পারবেন। তারা চাইলে অভিযোগ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিতে পারেন, অথবা ট্রাইব্যুনালে শুনানির আবেদন করতে পারেন।
ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শাল বলেছেন, এ পদক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেট রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। চারজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতিবিরোধী কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে পারবেন। তারা চাইলে শাস্তি মেনে নিতে পারেন অথবা ট্রাইব্যুনালের শুনানি চাইতে পারেন।
তিনি আরও জানান, একজনকে ‘এক্সক্লুডেড পারসন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে তিনি বিশ্বজুড়ে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ থাকবেন। দীর্ঘদিন ধরে ম্যাচ ফিক্সিংসহ বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট গঠনের পর এটিই প্রথম বড় ধরনের পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে আরও তদন্ত ও চার্জ আনা হতে পারে।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, তদন্তটি ২০২৫-২৬ বিপিএল মৌসুম এবং ২০২৪ সাল থেকে অনুষ্ঠিত এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে।
অমিত মজুমদারকে আইসিসি কোডের আর্টিকেল ২.২.১ অনুযায়ী অভিযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ম্যাচের ফলাফল বা কোনো অংশ নিয়ে বাজি ধরা বা বেটিং করা নিষিদ্ধ। তিনি কখনো বিপিএলে খেলেননি, তবে তদন্তকারীরা তার এবং রেজওয়ানের বিপিএল ও আইপিএল ম্যাচে বেটিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
রেজওয়ান ২০২৫-২৬ বিপিএলে সিলেট টাইটানসের ম্যানেজার ছিলেন। তবে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-মালিক তৌহিদ এবং লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আর্টিকেল ২.৪.৬ ও ২.৪.৭ অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়।
অন্যদিকে সামিনুর রহমানকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি খেলোয়াড় ও এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, দেশি-বিদেশি বেটিং চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে সহায়তার অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি শুনানির সুযোগ গ্রহণ না করে নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন।
‘এক্সক্লুডেড পারসন’ নীতির মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে সরানো হয়, যারা সরাসরি টুর্নামেন্ট বা দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও গুরুতর দুর্নীতিতে জড়িত। বিসিবি এমন নীতি ব্যবহার করা দ্বিতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: