মিরপুরে ধস নামালেন মিরাজ, তাসকিনের মাইলফলক
হতাশায় মোড়ানো দ্বিতীয় দিন শেষে তৃতীয় দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টি থামার পর পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে অলআউট করেছে স্বাগতিকরা।
২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামলেও আলোকস্বল্পতার কারণে ১.৫ ওভার ব্যাটিং করেছে নাজমুল হোসেন শান্তরা। স্কোরবোর্ডে বিনা উইকেটে ৭ রান তোলায় লিড দাঁড়িয়েছে ৩৪ রানে।
সোমবার সকালটা বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের চতুর্থ দিনে ব্যাটিং করা তুলনামূলক কিছুটা কঠিন।
তৃতীয় দিন শেষে উইকেটে বোলারদের সুযোগ লক্ষ্য করা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের চতুর্থ দিনে সেটি আরও বাড়বে।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রথম সেশনে দুই ওপেনারকে গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেটি করতে পারলে কিছুটা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে স্কোর এগিয়ে নেওয়া যাবে। আর তা হলে ঢাকা টেস্টের ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় দিনটি পাকিস্তানের। তবে তৃতীয় দিনটি ফের নিজেদের করে নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল। রবিবার পাকিস্তানকে অলআউট করার পেছনে বড় অবদান মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের। ক্যারিয়ারে ১৪ বারের মতো ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মিরাজ। অন্যদিকে তিন উইকেট নিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তাসকিন।
তৃতীয় দিন শেষ বিকালে পাকিস্তানকে অলআউট করে বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল। ১৭ ওভারের খেলা হওয়ার কথা থাকলেও ১.৫ ওভার পর খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা। যদিও পাকিস্তানকে লম্বা সময় ধরে আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সফরকারীরা চাচ্ছিলেন আরও কিছুক্ষণ খেলতে। তবে আম্পায়াররা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনঢ় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিনা উইকেটে বাংলাদেশ ৭ রান তোলে। মাহমুদুল হাসান জয় ২ রান নিয়ে ব্যাটিং করছেন। আরেক ওপেনার সাদমান এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি। ম্যাচটি ১৫ মিনিট এগিয়ে পৌনে দশটায় শুরু হবে।
এদিকে ম্যাচের তৃতীয় দিনে ১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে শুরু করেছিল পাকিস্তান। তবে তাসকিন ও মিরাজের বোলিংয়ে প্রথম সেশনে তারা হারায় আরও ৪ উইকেট। সবমিলিয়ে লাঞ্চে যাওয়ার আগে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৫১ রান। অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আজান আউয়াইস তাসকিনের বলে ধরা দেন স্লিপে। খানিক পর পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকেও ফেরান তিনি।
ঠিক পরের ওভারে ক্রিজে আসা সাউদ শাকিলকে কাবু করেন মিরাজ। মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। আগের দিন এক উইকেট নেওয়া মিরাজ এদিন আরও তিনটি উইকেট শিকার করেন। একে একে তুলে নেন আব্দুল্লাহ ফজল, নোমান আলী ও শাহিন শাহ আফ্রিদির উইকেট। সবমিলিয়ে ৩৮ ওভার বোলিং করেন এই অফস্পিনার। ১০২ রান খরচায় তুলে নেন ৫টি উইকেট। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৪তম ফাইফার।
মিরাজ ছাড়াও তাসকিন দারুণ বোলিং করেন। দ্বিতীয় দিনে ছন্নছাড়া বোলিং করলেও তৃতীয় দিনে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন এই পেসার। ৭০ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। আর তাতেই তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ডানহাতি এই পেসার।
টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ উইকেট, বিশ্ব ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে হয়তো খুব বড় কোনো মাইলফলক নয়। কিন্তু বাংলাদেশের পেস বোলারদের বাস্তবতায় এই অর্জনটা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। চোট, অনিয়মিত সুযোগ, ফর্মের ওঠানামা আর দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পেসার না পাওয়া—সব মিলিয়ে এই জায়গাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই বাস্তবতার ভেতর দিয়ে ১৭ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি পেসার ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন। যা দেশের পেস বোলিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর আগে এই তালিকায় সবার ওপরে আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি ১৯ টেস্টে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেছিলেন ২০০৬ সালে। শাহাদাত হোসেন ২০০৯ সালে ২১ টেস্টে ৫০ উইকেট নিয়েছিলেন। তাসকিনের লাগলো ১৮ টেস্ট।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন অভিষিক্ত আজান, খেলেন ১০৩ রানের ইনিংস। আরেক অভিষিক্ত ফজলের ব্যাট থেকে আসে ৬০ রান। এর বাইরে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯ ও সালমান আঘার ৫৮ রান করেন। এই চার ব্যাটারের সম্মিলিত চেষ্টায় পাকিস্তান ৩৮৬ রান তুলতে পারে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: