[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গেইলের রেকর্ড ভেঙে ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ বৈভব, এবার শিকার হায়দরাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬ ১৩:০৫ পিএম

১৫ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেটে নাম লেখানোই যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য বড় অর্জন। কিন্তু বৈভব সূর্যবংশী যেন অন্য ধাতুতে গড়া।

 তিনি শুধু বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেনই না, একের পর এক রেকর্ড ভেঙেও চলেছেন। বুধবার (২৭ মে) আইপিএলে প্রথমবার নকআউট ম্যাচ খেলতে নেমেই যথারীতি প্রতিপক্ষকে ব্যাট হাতে কচুকাটা করেছেন সূর্যবংশী। তার ঝড়ে এলিমিনেটর থেকে ছিটকে গেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

নিউ চণ্ডীগড়ে বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রাজস্থান রয়্যালস ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৪৩ রান। জবাবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১৯.২ ওভারে ১৯৬ রানেই থেমে যায়। ফলে ৪৭ রানের জয়ে কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিয়েছে রাজস্থান।

আগামী শুক্রবার (২৯ মে) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজস্থান।

ম্যাচ চলাকালীন আইপিএল আয়োজকেরা সূর্যবংশীকে আখ্যা দেন ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ নামে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এই নাম।

অস্ট্রেলিয়াকে অ্যাশেজ জেতানো অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও সূর্যবংশীর দাপট মেনে নিতে বাধ্য হন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ও দারুণ খেলেছে। সত্যি বলতে, ওর বিপক্ষে খুব বেশি কিছু করার থাকে না। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল ঠিকই, কিন্তু ভুলের সুযোগ ছিল খুব কম। ইয়র্কার সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ও সেটা ছাড় দেয় না। তাই কৃতিত্ব ওরই।’

২৪০ রান তাড়া করা নিয়েও কামিন্স বলেন, ‘এমন রান তাড়া করতে গেলে অনেক কিছু ঠিকঠাক হওয়া দরকার। তবে যদি কোনো উইকেট ও মাঠে এটা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি এই মাঠই। আমরা বেশিরভাগ সময় রানরেটের সঙ্গে ছিলাম, কিন্তু ভুল সময়ে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। এরপর কাজটা কঠিন হয়ে যায়। তারপরও আমরা নিজেদের একটা সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিলাম।’

এই ম্যাচে সূর্যবংশী আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার খুব কাছাকাছি গিয়েও পারেননি। তবে তিনি ভেঙেছেন ক্রিস গেইলের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগে নিজের দ্বিতীয় মৌসুম খেলতে থাকা এই কিশোর ২৮ বলেই পৌঁছে যান ৯৭ রানে। শতকের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র এক শট। কিন্তু পরের বলে প্রফুল হিঙ্গের শর্ট ডেলিভারিতে আপার কাট খেলতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে আর স্মরণের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ২৯ বলে ১২ ছক্কা ও ৫ চারে ৯৭ রান করে ফিরতে হয় তাকে।

আইপিএলের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এখনো গেইলের দখলে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ২০১৩ সালে মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গেইল। সেদিন তিনি খেলেছিলেন ১৭৫ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস, যেখানে ছিল ১৭টি ছক্কা ও ১৩টি চার।

এই ম্যাচের আগে গেইলের এক মৌসুমে ৫৯ ছক্কার রেকর্ড ভাঙতে সূর্যবংশীর দরকার ছিল ৬টি ছক্কা। কিন্তু তিনি হাঁকান ১২টি ছক্কা। ফলে চলতি আইপিএল তার মোট ছক্কার সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৫-তে, যা নতুন রেকর্ড।

একই সঙ্গে মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক অভিষেক শর্মার ৪৩ ছক্কাকেও অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছেন সূর্যবংশী।

এর আগেও আইপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় নিজের নাম তুলেছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ২০২৫এর আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৩৫ বলে শতক করে তিনি খেলেছিলেন ৩৮ বলে ১০১ রানের ইনিংস, যেখানে ছিল ১১ ছক্কা ও ৭ চার।

এছাড়া চলতি মৌসুমেই হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩৬ বলে শতক হাঁকিয়ে আইপিএলের তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েন তিনি। সেই ম্যাচে ৩৭ বলে ১০৩ রানের ইনিংসে ছিল ১২টি ছক্কা ও ৫টি চার।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর