অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে বিন্দুমাত্র ভয় নেই, আত্মবিশ্বাস ঝরল তাওহীদের কণ্ঠে
অস্ট্রেলিয়া মানেই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি। তবে নামের ভারে চাপে পড়তে নারাজ বাংলাদেশ। আসন্ন ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই সেই বার্তা দিলেন তাওহীদ হৃদয়।
মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে আসরের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন তাওহীদ। যদিও এর আগে ফিফটি ছাড়ানো ইনিংস আছে তিনটি। দুটিতেই করেছিলেন আশির ঘরের রান। ৭ ইনিংসে ৭১.১৬ গড় ও ১১৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৪২৭ রান করেছেন তাওহীদ। রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন দুইয়ে।
নিজের ব্যাটিংয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী তাওহীদ। একই সঙ্গে দল নিয়ে একেবারেই নির্ভার। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি দলই শক্তিশালী হলেও নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশও কম বড় দল নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সব ফরম্যাটে দলের ধারাবাহিক সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাওহীদ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ থাকলেও ভয় বা অতিরিক্ত চাপের কোনো কারণ দেখছেন না তারা। বরং ঘরের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর একটি সিরিজের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ দল।
তাওহীদ বলেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি দলই বড় দল। অস্ট্রেলিয়া বড় নাম, তবে নিজেদের মাঠে আমরাও শক্তিশালী দল। গত কয়েকটি সিরিজে সব ফরম্যাটেই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে। বড় স্কোর করতে হলে টপ অর্ডারকে রান করতে হবে। কোনো দিন তারা না পারলে মিডল অর্ডারের দায়িত্ব থাকবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার।’’
লাদেশ ঘরের মাঠে শেষ তিনটি সিরিজই জিতেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে ভালো অবস্থানে থাকতে হলে বাংলাদেশকে ভালো করতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও। তাওহীদের বিশ্বাস নিজেদের কন্ডিশনে সেরা সাফল্যই পাবে বাংলাদেশ। তবে স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে চান জানিয়ে রাখলেন তিনি, ‘‘যদি বড় লক্ষ্য হিসেবে বিশ্বকাপ বা আইসিসি ইভেন্টগুলোর কথা ভাবি, তাহলে সেখানে সাধারণত ভালো ও স্পোর্টিং উইকেটেই খেলা হয়। তাই বড় মঞ্চে সফল হতে হলে আমাদেরও ভালো উইকেটে খেলতে হবে। গত দুই-তিনটি সিরিজে আমরা ভালো উইকেটে খেলেছি এবং ভালো ফল পেয়েছি। এখন লক্ষ্য হলো প্রতিদিন নিজেদের আরও উন্নত করা।’’
নিজের ফর্ম নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী এই ব্যাটসম্যান, ‘‘দলের জন্য অবদান রাখতে পারছি বলে ভালো লাগছে। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার দায়িত্বই হলো দলকে সাহায্য করা। আমি সবসময় চেষ্টা করি যতটা সম্ভব দলের জন্য অবদান রাখতে। সামনে যেহেতু অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আছে এবং মিরপুরেই খেলা হবে, তাই আমরা চেষ্টা করেছি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেভাবে খেলতে হবে, সেই মানসিকতা ও পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে। আলহামদুলিল্লাহ, সামগ্রিকভাবে ভালো হয়েছে।’’
প্রচণ্ড গরমে ঢাকা লিগের খেলা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও একই ধরনের আবহাওয়া থাকবে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটাকে অজুহাত হিসেবে মানতে নারাজ তাওহীদ, ‘‘পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এটাকে অজুহাত বলা যাবে না। আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের জন্য যেমন হবে, প্রতিপক্ষের জন্যও তেমনই হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা এবং ম্যাচের দিন শতভাগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।’’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: