[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১১ই জুন ২০২৬
২৮শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘুচল ২১ বছরের আক্ষেপ, অস্ট্রেলিয়া বধ করে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬ ২১:০৬ পিএম

দীর্ঘ দুই দশকের আক্ষেপ ঘুচিয়ে অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ।

মোহাম্মদ আশরাফুলের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ২০০৫ সালের সেই ঐতিহাসিক কার্ডিফ জয়ের পর দীর্ঘ ২১ বছর অস্ট্রেলিয়া ছিল টাইগারদের জন্য ধরাছোঁয়ার বাইরে। অবশেষে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান সংগ্রহের পর হানা দেয় বৃষ্টি। প্রায় ৫৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আম্পায়াররা আর খেলা মাঠে না গড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ তখন ৮৬ রানে এগিয়ে থাকায় জয় নিশ্চিত হয় টাইগারদের।

এর আগে, টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাটে ভর করেই ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ এবং ও তানজিদ হাসান তামিম ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। তাসকিন আহমেদ শেষ দিকে খেলেন ১৫ বলে ২০ রানের ক্যামিও ইনিংস।

২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদ ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে জয়ের সুর বেঁধে দেন। দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হন মার্নাস লাবুশেন (১)। যদিও শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি, তবে টাইগার অধিনায়ক মিরাজ রিভিউ নিয়ে তাকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। এরপর নাহিদ রানার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে পরাস্ত হন জশ ইংলিশ (১৯)।

৫১ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনের কপার কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। তবে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও নিজেকে প্রমাণ করেন মোসাদ্দেক। বল হাতে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার। মোসাদ্দেকের ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে বোল্ড হন অস্ট্রেলিয়ার সেট ব্যাটার কনোলি (৩৫)। এরপর নাহিদ রানার গতিতে পরাস্ত হন আরেক সেট ব্যাটার ক্যারে। উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফিফটি হাতছাড়া করেন (৪৭)।

ম্যাট রেনশকে (২) এলবিডব্লিউ করেন মোসাদ্দেক। এরপর টানা দুই ওভারে দুই লোয়ার অর্ডারকে সাজঘরে ফেরান নাহিদ রানা। ১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। ক্যামেরন গ্রিন পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করে গেছেন। একপ্রান্ত ধরে ফিফটি তুলে নেন তিনি ৬৪ বলে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিতই থেকে যান ৫২ রানে। ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া।

নাহিদ রানা গতির ঝড় তুলে ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া প্রত্যাবর্তনকারী মোসাদ্দেক হোসেন বল হাতেও ঝলক দেখিয়ে ২টি উইকেট তুলে নেন। সমান দুই উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমানও। এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হলো।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৮৪/৮ (মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪; এলিস ৩/৩৮, রেনশ ২/৩৫, স্কট ৩/৫৭)।
অস্ট্রেলিয়া: ৪২.২ ওভারে ১৯১/৯ (গ্রিন ৫২*, ক্যারে ৪৭, কনোলি ৩৫; নাহিদ রানা ৪/৪১, মোসাদ্দেক ২/৩৭, মোস্তাফিজ ২/২৪)

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর