[email protected] শুক্রবার, ৩রা জুলাই ২০২৬
১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩

ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হার বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬ ১৮:০৬ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পেরে উঠল না বাংলাদেশ। ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরেছে অতি সহজেই।

ব্যাটিংয়ে তালগোলপাকানো পারফরম্যান্সে স্বল্পপুঁজি জমা করে স্কোরবোর্ডে। বোলাররা সেই পুঁজি নিয়ে খানিকটা লড়াই করে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় হেসেছে বিজয়ের হাসি।

টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে যায়। জবাব দিতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেট হারিয়ে ১০ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

ব্যাটিং বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে। অধিনায়ক লিটন দাস চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠায় খেলতে পারেননি। তাতে অধিনায়কত্বের অভিষেক হয়ে গেছে তাওহীদ হৃদয়ের। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলা শুরু হয়েছে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের। দুজনের শুরুর পথচলা রঙিণ হলো না বিব্রতকর পরাজয়ে।

ব্যাটিংয়ে আজ স্রেফ দুর্দাশা নেমেছিল। চেনা উইকেটে আগে ব্যাটিং করতে নেমে একশ রান করার আগেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ! ধ্বংসস্তূপে পড়া বাংলাদেশকে শেষমেশ উদ্ধার করেন মাহেদী হাসান। তার শেষের ঝড়ে সম্মানজনক পুঁজি পায় বাংলাদেশ। মাহেদী ২২ বলে ২৯ রান করেন ৪ বাউন্ডারিতে। তার অপরাজিত ইনিংসে বাংলাদেশ কিছুটা লড়াইয়ের আশা করছে।

নয়তো যেভাবে বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়েছে তাতে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যেই পড়তে হতো। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে যারা এসেছেন তারা কেউই পারেননি দায়িত্ব নিয়ে টিকে থাকতে।

তবে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো ছিল। পাওয়ার প্লে’তে ৬ ওভারে ৫২ রান পায়। উইকেট হারায় ২টি। এরপরই ছন্দপতন। সেখান থেকে ৯৯ রানে যেতেই আরও ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তাতে বড় রানের আশা শেষ হয়ে যায়।

মাহেদীর ২৯ বাদে, সাইফ হাসান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেন। ১৭ রান করেন সৌম্য সরকার। এছাড়া ১০ রানের তিনটি ইনিংস আসে তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ব্যাট থেকে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস ৩টি করে উইকেট নেন। ২ উইকেট নেন ম্যাট রেনশ।

বোলাররা স্বল্পপুঁজি নিয়ে লড়াই করার হাল ছাড়েনি। নতুন বলে জস ইংলিশকে (৫) শরিফুল বোল্ড করার পর বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শকে (১৩) টিকতে দেননি মোস্তাফিজুর। কিন্তু তিনে নামা কুপার কোনোলি ক্রিজে এসে প্রতি আক্রমণ চালান।

২৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৭ রান করেন। তাকে থামান অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তবে ভালো করতে পারেননি টিম ডেভিড। ২০ রান করে থেমে যান। পরের দুই ব্যাটসম্যান ম্যাট রেনশ ও নিখিল চৌধুরী খেলেন ১৮ রানের দুইটি ইনিংস।

তাতেই ম্যাচটা হাতের নাগাল থেকে বেরিয়ে যায়। ছোট ছোট একাধিক ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ মসৃণ করে দেয়। বাংলাদেশের সেরা বোলার সাকলাইন ৩.২ ওভারে ৩২ রানে ২ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল, মোস্তাফিজুর, মাহেদী ও রিশাদ।

১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা।

আগামী ১৯ জুন চট্টগ্রামেই হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর