[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জেতা ম্যাচ ড্র করে হামজাকে হতাশ করলেন সতীর্থরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ২২:১১ পিএম

বৃহস্পতিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে অনন্ত তামাংয়ের গোলে ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে নেপাল। দমে না গিয়ে হারতে থাকা ম্যাচ ড্র করেই মাঠ ছাড়ে কিরন লিম্বু বাহিনী। দর্শকরাও ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ নয়, নেপাল নেপাল বলে চিৎকার করে বাহবা দেন সফরকারীদের।


একাই দুই গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে রেখেছিলেন হামজা চৌধুরী। কিন্তু তিনি মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার পরে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচের অন্তিম মুহুর্তে অনন্ত তামাংয়ের গোলে ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে নেপাল। দমে না গিয়ে হারতে থাকা ম্যাচ ড্র করেই মাঠ ছাড়ে কিরন লিম্বু বাহিনী। দর্শকরাও ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ নয়, নেপাল নেপাল বলে চিৎকার করে বাহবা দেন সফরকারীদের।


অর্থের ঝনঝানি দেশের ফুটবলে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমরা আসায় কোষাগার ফুলে ফেপে ওঠাতেই ব্যস্ত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। চারিদিকে পৃষ্ঠপোষকদের লাইন। ফুটবলাররও অর্থের ভাগ কম পান না। অথছ বিপরীত চিত্র নেপালের ফুটবলে। ঢাকায় আসার আগেও বেতনের আন্দোলনে তারা মাঠে নেমেছিলেন। সেই হিমালয়ের দেশটির সঙ্গে এখনো ড্র করে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন বাফুফের কর্তারা।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ফুটবলের মানদন্ড যাচাইয়ের এখন অন্যতম মাধ্যম নেপাল। তাইতো আফগানিস্তানকে না পেয়ে প্রীতি ম্যাচে নেপালকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার এটি ছিল ৩১তম মোকাবিলা। এর মধ্যে জয়ের পাল্লা বাংলাদেশেরই ভারি। ১৪ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। ড্র করেছে নয়টি ও হার আটটিতে।


২৫ মার্চ ভারতের শিলংয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ খেলেন হামজা। ৪ জুন ভূটানের বিপক্ষে ঢাকায় প্রীতি ম্যাচে হামজা বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোল করেন। ৯ অক্টোবর ঢাকায় হংকং ম্যাচে দুর্দান্ক ফ্রি কিকে করেছিলেন নিজের দ্বিতীয় গোল। কালকের জোড়া গোলে হামজার গোল সংখ্যা ৪ এবং ম্যাচ ৬।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে এগিয়ে যায় নেপাল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করে সফরকারীরা। ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন নেপালের ফরোয়ার্ডকে ঠিক মতো মার্কিংয়ে রাখতে পারেননি। নেপালী ফুটবলারের কাটব্যাক ক্লিয়ার করতে পারেননি সোহেল রানা। ফলে খানিকটা দৌড়ে এসে রোহিত চাঁদের নেওয়া জোরালো শট বাংলাদেশের ডিফেন্স ও গোলকিপার মিতুল মারমাকে পরাস্ত করতে সমস্যা হয়নি।


নিজেদের মাঠে ম্যাচ। তার আগে প্রায় দুই সপ্তাহের অনুশীলন। এরপরও বাংলাদেশ নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে তেমন আশাব্যাঞ্জক পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। বল দখলে থাকলেও সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত আক্রমণ দেখা যায়নি। ফরোয়ার্ড রাকিব হাসান ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম গোলের সুযোগ পেলেও ফিনিশিং দক্ষতায় বল জালে জড়াতে পারেননি।


হামজা চৌধুরি অন্য দিনের মতো কালও মাঠ জুড়েই খেলেছেন। আক্রমণের সময় নেপালের বক্সে হাত তুলে বল চেয়েছিলেন। সতীর্থ সোহেল রানা তাকে পাস না দিয়ে উল্টো লক্ষ্যভ্রষ্ট শট করেন। হামজা ডান প্রান্তে রানিংয়ে পা ঘুরিয়ে পাস দিয়ে তার জাত চিনিয়েছেন।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সোহেল রানার পরিবর্তে সামিত সোমকে নামান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ক্রস করেন ফাহিম। নেপালের ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করলেও অধিনায়ক জামালের পায়ে পড়ে। তিনি বলটি হাল্কা উঠিয়ে হামজার উদ্দেশ্যে দেন। হামজা বক্সের মধ্যে শূন্য লাফিয়ে বাইসাইকেল কিক নেন। বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন হাজার হাজার দর্শক। হামজার এমন বুদ্ধিদীপ্ত গোলে লাল সবুজের কোচিং স্টাফ ও দলের সবাই উদযাপন করেছে বিশেষভাবে। তিন মিনিট পর গ্যালারিতে ফের উল্লাসে মেতে উঠেন দর্শকরা। এই আনন্দ এগিয়ে যাওয়ার। গোলদাতা সেই হামজাই। ফরোয়ার্ড রাকিবকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন সুমন শ্রেষ্ঠা। বল নেপালের বক্স থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। রাকিবও বলের পেছনে ছুটছিলেন। সেই সময় সুমন রাকিবকে বাধা দিলে বক্সের মধ্যে পয়ে যান। তখন লঙ্কান রেফারি কাওসুন লাকমাল পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

নেপালী ফুটবলাররা পেনাল্টির প্রতিবাদ জানালেও রেফারি তার অবস্থানে অনড় থাকেন। হামজা হাল্কা শটে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন। পরে মাঠ ছেড়ে বিশ্রামে যান হামজা চৌধুরী। সেই সুযোগে ম্যাচের অন্তিম মূহুর্তে অনন্ত তামাংয়ের গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে নেপাল।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর