[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সমস্যায় পড়লে কাকে স্মরণ করেন হামজা?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:১১ এএম

গত মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব শুরু করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শিলংয়ে অনুষ্ঠিত ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল হামজা চৌধুরীর। ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এরপর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলে ফেলেছেন ৬ ম্যাচ। যেখানে নিজে ৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও ১ গোল।

বাংলাদেশ ফুটবল দলে প্রবাসীদের পথটা খুলে দেন জামাল ভূঁইয়া। ২০১৩ সালে প্রথম প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে নামেন ডেনমার্ক প্রবাসী এই মিডফিল্ডার। এরপর তার পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশে খেলতে আসেন ইংল্যান্ড প্রবাসী হামজা। এই দুই প্রবাসীর মাঠের রসায়নটাও বেশ দারুণ। হামজার ৪ গোলের দু'টির যোগানদাতাও বাংলাদেশের অধিনায়ক।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে জামাল বললেন মাঠের বাইরের কথাও,‌ ‘হামজা বিদেশ থেকে এসেছে আমার মতো। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো। হামজার যখনই কোনো সমস্যা হয় আমাকে টেক্সট করে বা কল করে। ফুটবল নিয়ে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে আমি হামজাকে জিগাই (জিজ্ঞেস করি)। সো এই আন্ডারস্ট্যান্ডিং মাঠের বাইরে শুরু হইছে।’

বাংলাদেশের জার্সিতে হামজার প্রথম গোলটা ছিল ভুটানের বিপক্ষে। সেই গোলটা এসেছিল জামালের নেয়া কর্নার কিক থেকে। সর্বশেষ নেপালের বিপক্ষে ম্যাচেও জামালের বাড়ানো বলে গোল গোল করেন হামজা। হামজার চার গোলের মধ্যে বাইসাইকেল কিককে এগিয়ে রাখলেন জামাল, ‘এটা বেশ খুশির হামজার চার গোলের মধ্যে আমার দুটি অ্যাসিস্ট। বাইসাইকেল কিকের গোলটি অত্যন্ত অসাধারণ।’

হামজা-জামালের মাঠের রসায়ন ভালো হলেও অধিনায়ক হয়েও অনেক সময় একাদশে থাকেন না জামাল। গেল এক বছর ধরে এটাই যেন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবারের ভারত ম্যাচেও জামাল থাকবেন কি না সেটাও নিশ্চিত নয়। এ প্রশ্নে অবশ্য কোচ হাভিয়ের কাবরেরার কোর্টে বল ঠেলে দিলেন বলেন,‘এটা উনার (কোচ) ডিসিশন। আমি খেলতে চাই। খেলতে না পারলে তো অবশ্যই খারাপ লাগে।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের বড় সমস্যা ছিল গোলখরা। ম্যাচের পর ম্যাচ খেললেও প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারছিল না ফুটবলাররা। তবে হামজার আগমনের পর কেবল ভারত ম্যাচ ছাড়া প্রতি খেলায় গোল পেয়েছে বাংলাদেশ। হামজা মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও বাংলাদেশ তার কাছ থেকে গোল পাচ্ছে। এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।

সংবাদ সম্মেলনে এই স্প্যানিশ কোচ বললেন সেই কথাই,‘হামজা ছয় ম্যাচে চার গোল করেছে, এটি তার পজিশন নির্বিশেষে খুবই ইতিবাচক। তার ভেতর যে ইমপ্যাক্ট আছে তা অনেক বড়। সে আসার পর থেকে আমরা প্রতি ম্যাচেই গোল করছি। তাকে সামনে বা পেছনে খেলার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এবং আমরা তাতে মানিয়ে নিচ্ছি, যা দলের জন্য খুবই ইতিবাচক।’

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর