লাল সবুজের জার্সিতে সাবেকদের মিলনমেলা
মহান বিজয় দিবস উদযাপনে বাফুফে ভবনের টার্ফে বসেছিল সাবেক তারকাদের মিলনমেলা। প্রতিবারের মতো সাবেক পুরুষ ফুটবলারদের নিয়ে প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজিত হলেও, এবারই প্রথম সাবেক নারী ফুটবলারদের নিয়ে এমন আয়োজন করে বাফুফে। লাল ও সবুজ—দুটি দলে বিভক্ত হয়ে সাবেকরা মেতে ওঠেন ফুটবল উৎসবে।
নারীদের ম্যাচে সবুজ দলের জয় ৩০ মিনিটের এই ঐতিহাসিক ম্যাচে সবুজ দল ১-০ গোলে জয়লাভ করে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন শ্রাবণী, যিনি জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় না হলেও এই বিশেষ ম্যাচে অংশ নেন। ম্যাচে অংশ নেন সাবেক অধিনায়ক খুরশিদা খাতুন খুশি, মাহমুদা খাতুন অদিতি, উম্মে হাফসা রুমকি, সুরভী আক্তার ও রেশমা খাতুনের মতো চেনা মুখেরা।
এই আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সাবেক নারী ফুটবলার মাহমুদা খাতুন অদিতি বলেন, "অনেক দূর-দূরান্ত থেকে, যেমন নারায়ণগঞ্জ, উত্তরা বা টঙ্গী থেকে অনেকে এসেছে। এক্স-প্লেয়ারদের অনেকেই এখনো রেগুলার প্র্যাকটিস করে। বাফুফের বর্তমান কমিটি ও প্রেসিডেন্টের ডাইনামিক চিন্তার কারণেই এই আয়োজন সম্ভব হয়েছে। আমাদের গেট-টুগেদার এবং একেক জনের পেইনফুল লাইফস্টাইল থেকে বেরিয়ে একটু স্মৃতি নিয়ে যাওয়া—এতে আমাদের কাজের স্পিড আরও বেড়ে যাবে"।
পুরুষদের ম্যাচেও লড়াইয়ের ঝাঁজ ৪৫ মিনিটের পুরুষদের ম্যাচেও ছিল টানটান উত্তেজনা। লাল দলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জয়ী হয় সবুজ দল। বয়সের ভার থাকলেও মাঠে তাদের স্কিল, পাসিং আর ট্যাকলিংয়ে ছিল সেই পুরনো দিনের ঝলক। লাল দলের ওয়ালী ফয়সালের বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক এবং সবুজ দলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে জাহিদ হাসান এমিলির খেলা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
ম্যাচ শেষে সাবেক তারকা জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, "বিজয় দিবস আমাদের জন্য স্পেশাল। এই দিনটার জন্য আমরা সবসময় অপেক্ষা করি। লাল ও সবুজ দলে ভাগ হয়ে খেলাটা আমাদের জন্য একটা মেলবন্ধন। যদিও সবুজ দল জিতেছে, কিন্তু লাল দলও ভালো খেলেছে। সব মিলিয়ে ম্যাচটা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল"।
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এমিলি আরও বলেন, "২০০৩ সালের পর ছেলেদের বড় কোনো অর্জন নেই, কিন্তু মেয়েরা ব্যাক-টু-ব্যাক সাফ জিতেছে। ২০২৬ সালে মেয়েরা এশিয়ান কাপ খেলবে, এটা আমাদের জন্য বড় দিকনির্দেশনা"।
প্রজন্মের মেলবন্ধন এই ম্যাচ দেখতে মাঠের পাশে উপস্থিত ছিলেন রূপনা চাকমা, স্বপ্না রানী, তহুরা খাতুনের মতো বর্তমান জাতীয় দলের তারকারা। বর্তমানরা দেখছিলেন তাদের পূর্বসূরিদের খেলা।
এ বিষয়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের কোচ ও সাবেক খেলোয়াড় উম্মে হাফসা রুমকি বলেন, "বর্তমান খেলোয়াড়রা বসে খেলা উপভোগ করেছেন। তারা জানতে পারলেন তাদের সাবেক খেলোয়াড়রা কেমন ছিলেন এবং কীভাবে খেলতেন। এটা তাদের জন্য একটা বড় অভিজ্ঞতার বিষয় ছিল"।
সাবেকদের অনুভূতি মাঠে এসে পুরনো সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আবেগাপ্লুত ছিলেন অনেকেই। ৫৫ বছর বয়সী সাবেক ফুটবলার আরমান মিয়া বলেন, "অনেক দিন পরে সবার সাথে খেলতে এসে দেখা হওয়াটা ভালো লাগার বিষয়। আগে সবসময় দেখা হতো, এখন হয়তো বছরে একবার হয়। সোনালী ক্লাবের হয়ে আমরা মাঝেমধ্যে প্র্যাকটিস করি, কিন্তু এই ধরনের বড় আয়োজন খুব কমই দেখা যায়"।
দিনটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না; এটি ছিল স্মৃতিচারণ, হাসি-কান্না আর পুরনো সতীর্থদের পুনর্মিলনের এক অনন্য উৎসব। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা সাবেক ফুটবলাররা আশা প্রকাশ করেন, বাফুফে যেন প্রতি বছর এমন আয়োজনের ধারা অব্যাহত রাখে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: