আসছে একাডেমি কাপ ফুটবল
দেশের ফুটবলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী করতে এবার বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় তিন শতাধিক ফুটবল একাডেমিকে এক ছাতার নিচে এনে আয়োজন করা হবে ‘একাডেমি কাপ’।
রোববার বাফুফে ভবনে ডেভেলপমেন্ট কমিটির ষষ্ঠ সভা শেষে এই ঘোষণা দেন কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। সভা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাসের শাহরিয়ার জাহেদী জানান, বিচ্ছিন্নভাবে নয়, দেশের সব নিবন্ধিত একাডেমিকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসাই তাদের লক্ষ্য।
টুর্নামেন্টের ধরন ও ব্যাপকতা পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবারের একাডেমি কাপ হবে ছেলে ও মেয়ে-উভয় বিভাগেই। ছেলেদের প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ে। অন্যদিকে, মেয়েদের টুর্নামেন্টটি বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির পূর্ণ সহায়তায় আয়োজন করবে উইমেন্স উইং। এর আগে মূলত ফিফার অর্থায়নে ১৬৫ থেকে ১৭০টি একাডেমি নিয়ে সীমিত পরিসরে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতো। তবে এবার সেই গণ্ডি পেরিয়ে দেশের প্রায় ৩০০টি ছোট-বড় একাডেমিকে এই মহাযজ্ঞে শামিল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ফেডারেশন।
বছরজুড়ে ফুটবল উৎসব শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্টেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না বাফুফে। ডেভেলপমেন্ট কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সারা বছর মাঠের ফুটবল সচল রাখতে প্রতি মাসেই অন্তত একটি করে গ্রাসরুট ইভেন্ট আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে ফুটবল ক্লিনিক, ফুটবল ফেস্টিভ্যাল এবং কমিউনিটি ভিত্তিক নানা কার্যক্রম। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কিশোর ফুটবলারদের নিয়মিত খেলার মধ্যে রাখা এবং তাদের উৎসাহিত করা।
তৃণমূলের উন্নয়নে এতদিন ফিফার ফান্ডের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলেও, এবার সেই ধারায় পরিবর্তন আনতে চাইছে বাফুফে। নাসের শাহরিয়ার জাহেদী জানান, ২০২৬ সালকে সামনে রেখে তারা স্থানীয় স্পন্সরদের (ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান) এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। এছাড়াও, একাডেমিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নিজস্ব স্পন্সর জোগাড়ে উৎসাহিত করবে বাফুফে। পাশাপাশি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একাডেমিগুলোকে টেকনিক্যাল ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্র“তিও দেওয়া হয়েছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: