[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে ভিয়েতনাম, নকশায় ঐতিহ্যের ছাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০২ পিএম

বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে ভিয়েতনাম। ১ লাখ ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয়েছে ট্রং ডং স্টেডিয়াম। ছবি: এক্স

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু করেছে ভিয়েতনাম। ১ লাখ ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই ভেন্যুর চমকপ্রদ নকশা প্রকাশ করা হয়েছে।

হ্যানয় সরকার গত ডিসেম্বরে ‘ট্রং ডং স্টেডিয়াম’ নির্মাণের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়। এটি মূলত বিশাল ‘অলিম্পিক স্পোর্টস সিটি’ প্রকল্পের অংশ, যার আবাসিক ও ক্রীড়া অবকাঠামো মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন পাউন্ড।

স্টেডিয়ামটি হবে পুরো প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। কর্মকর্তাদের মতে, এখানে বড় আকারের ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিয়েতনামের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের স্থাপত্য নকশা প্রাচীন ‘ডং সন ব্রোঞ্জ ড্রাম’ থেকে অনুপ্রাণিত। এই ঢোল প্রাচীন ভিয়েতনামি সভ্যতার প্রতীক, যা সম্প্রদায়ের চেতনা, শক্তি ও দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রতিনিধিত্ব করে।

নির্মাতাদের দাবি, এর মাধ্যমে ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও আধুনিক স্থাপত্যকে একত্রিত করা হবে এবং একটি আইকনিক ভেন্যু নির্মাণের লক্ষ্য পূরণ হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম, চীনের ‘বার্ডস নেস্ট’ এবং কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের মতো বড় স্টেডিয়াম নির্মাণ জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে, এগুলোকে উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

এই মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম উত্তর কোরিয়ার রুংরাডো ১ মে স্টেডিয়াম। ভিয়েতনামের নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামটি এটিকেও ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ আসনসংখ্যার স্টেডিয়াম হবে বলে দাবি করা হয়েছে। রুংরাডোর আসনসংখ্যা আনুমানিক ১ লাখ ১৪ হাজার। একইভাবে, ২০৩০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নির্মাণাধীন মরক্কোর হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়ামকেও (প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার আসন) এটি অতিক্রম করবে।

ট্রং ডং স্টেডিয়ামের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে: ভিয়েতনামে বৃহৎ, সমন্বিত এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ক্রীড়া অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই জরুরি হয়ে উঠছে, বিশেষ করে যখন দেশটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনে আরও গভীরভাবে অংশ নিতে চায়।

সেখানে বলা হয়েছে, ‘দেশের রাজধানী হ্যানয়, যা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক কেন্দ্র—টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সংযুক্তির চাহিদা পূরণে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দায়িত্ব বহন করে। এই প্রেক্ষাপটে, ট্রং ডং স্টেডিয়াম একই কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা কেবল ক্রীড়া কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নতুন যুগে ভিয়েতনামের প্রতিনিধিত্বকারী একটি স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে ওঠার লক্ষ্যও রয়েছে।’

এই ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের আইকনিক স্থাপনাগুলোর সমমানের একটি স্টেডিয়াম নির্মাণকে জাতীয় অবকাঠামো সক্ষমতা ও বিশ্ব ক্রীড়া মানচিত্রে ভিয়েতনামের অবস্থান উন্নয়নের রোডম্যাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

জানা গেছে, এই স্টেডিয়ামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিট্র্যাকটেবল (খোলা-বন্ধ করা যায় এমন) ছাদ থাকবে। পাশাপাশি প্রকল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ী সমাধান ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

দাবি করা হচ্ছে, এই ভেন্যু ভিয়েতনামকে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ, অলিম্পিকসহ বিভিন্ন বড় আন্তর্জাতিক ও মহাদেশীয় ইভেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা দেবে।

গত ডিসেম্বর মাসে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন (গ্রাউন্ড-ব্রেকিং) অনুষ্ঠিত হয়েছে। অলিম্পিক স্পোর্টস সিটি প্রকল্পটিকে চারটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আর পরিবহন ব্যবস্থা, নতুন নগর এলাকা ও অতিরিক্ত ক্রীড়া স্থাপনা সমন্বিত পুরো প্রকল্প ২০৩৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর