দুর্দান্ত খেলেছে মেয়েরা-বাটলার
নারী ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি চীনকে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছেন আফঈদা,ঋতুপর্ণারা। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও ব্যবধান বাড়তে না দেওয়া- সব মিলিয়ে নারী এশিয়ান কাপের রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচে প্রাপ্তিই বেশি দেখছেন ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। কিছু মুহূর্ত বাদ দিলে মেয়েরা দুর্দান্ত খেলেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ।
তার কথা, ‘আমি চীনকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমার মনে হয় তারা এশিয়ার অন্যতম সেরা দল। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের হারানোর জন্য তাদের অবশ্যই অভিনন্দন। আমার মনে হয়েছিল যে, তারা হয়তো খেলাটা একপেশে করে ফেলবে, কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। ম্যাচের আগে মেয়েদের বলেছিলাম নিজেদের সেরাটা দিতে। তোমরা যা দিতে পারবে, তা দাও; নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো। তোমরা যেমন, তেমনই থাকো এবং আমরা যা, সেটাই দেখাও।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা এখানে এসে রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকতে এবং বলির পাঁঠা হতে আসিনি। আমি সেভাবে কোচিং করাই না এবং আমার দলও সেভাবে খেলুক, তা আমি চাই না। আমার মনে হয় আজ রাতে (গতকাল রাতে) মেয়েরা দুর্দান্ত ছিল। সত্যিই কিছু ভালো মানের খেলোয়াড় এবং একটি শক্তিশালী বেঞ্চ সমৃদ্ধ একটি চমৎকার দলের বিরুদ্ধে দারুণ প্রচেষ্টা ছিল এটি। তাই আমি মেয়েদের নিয়ে আনন্দিত। ৪০ মিনিটের মতো তাদের আটকে রাখতে পেরেছিলাম। মেয়েদের এমন প্রচেষ্টা নিয়ে সত্যিই গর্বিত এবং তারা সত্যিই তাদের দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে, জার্সির সম্মান রেখেছে এবং এটি প্রমাণ করে যে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’
নিয়মিত গোলকিপার রুপনা চাকমা সম্পর্কে কোচের কথা, ‘রুপনা খুব ভালো। সে দারুণ একজন খেলোয়াড়। কিন্তু তার উচ্চতা কম এবং আমি তো তাকে কোনো গ্রো ব্যাগে (গাছ বড় করার ব্যাগ) রেখে খাবার খাইয়ে আশা করতে পারি না যে, সে ঘুম থেকে উঠে ছয় ইঞ্চি লম্বা হয়ে যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমি সবসময় একটি ন্যায্যতার অনুভূতি এনেছি এবং দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সবসময় একটি প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রেখেছি।’
অন্যদিকে বাংলাদেশের ফুটবলারদের নৈপুণ্যের প্রশংসা পঞ্চমুখ চীনের কোচ আন্তে মিলিচ। ম্যাচ শেষে তার কথা, ‘বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে স্কিল ফুটবলার রয়েছে নাম্বার ৬ (মনিকা চাকম), ৮ (মারিয়া মান্দা) এবং ১৭ (ঋতুপর্ণা চাকমা) দারুণ খেলেছে। বাংলাদেশের তেমন চাপ ছিল না, চাপহীনভাবে ভালোই খেলেছে।’ নিয়মিত গোলকিপার রুপনা চাকমাকে বাদ দিয়ে এশিয়ান কাপের অভিষেক ম্যাচে মিলি আক্তারের উপর বিশ^াস রাখেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। মিলির প্রশংসা করে চীনের কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশের গোলকিপার নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছি। এই গোলকিপারও তাদের মতো (ঋতুপর্ণাদের) অসাধারণ খেলেছে।’
বাংলাদেশের চেয়ে র্যাংকিংয়ে চীন ৯৫ ধাপ এগিয়ে। চীনের খেলোয়াড়রা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। এরপরও বাংলাদেশের মতো নবীন প্রতিপক্ষের সঙ্গে মাত্র ২-০ গোলে জয়। স্কোরলাইন ও পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ আন্তে মিলিচ বলেন, ‘বাংলাদেশ তরুণ দল। চাপহীন থেকে ফ্রি খেলেছে। আমরা এ রকমই প্রত্যাশা করেছিলাম। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ এ রকমই হয়। আমরা জিতেছি, ক্লিনশিট রয়েছে এতে সন্তুষ্ট।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: