নতুন এশিয়ান কাপে নুতন মিশন শুরু আফঈদা-মিলিদের
বড়দের লড়াই শেষ। এবার এশিয়ান কাপে লড়াই শুরুর পালা অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলারদের। তবে আশার কথা হচ্ছে, লাল সবুজের সিনিয়র নারী ফুটবলারদের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার থাকছেন বয়সভিত্তিক এই দলের কাপ্তান হিসাবেও।
আগামাীকাল থাইল্যান্ডের ব্যাংককের পাশে পাথুম থানীতে শুরু হচ্ছে এশিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েদের এই লড়াই। প্রথম দিনেই আফঈদাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক থাইল্যান্ড। থামাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে ম্যাচটি।
ক’দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ খেলে এসেছেন আফঈদা খন্দকার, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমারা। তিন ম্যাচের তিনটিতে হারলেও চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সমানতালে লড়েছেন তারা। যা প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবলাপ্রেমীদের। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অনুজদের পালা। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আগেভাগেই (২১ মার্চ) ব্যাংককে এসেছে আফঈদা বাহিনী। প্রায় ১০ দিন অনুশীলনের পর এখন মূল টুর্নামেন্টে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত তারা। ইতোমধ্যে ভারত ও জর্ডানের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার বাহিনী। আশার কথা হচ্ছে, এবারের অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের বড় শক্তি সিনিয়র জাতীয় দলের ১১ ফুটবলার। তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরেই অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে উঠেছিলেন। এরা হলেন- গোলকিপার মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী ম-ল, ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার, নবীরন খাতুন, সৌরভী আক্তার আফরিন, মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী, উমেহলা মারমা, স্ট্রাইকার সৌরভী আকন্দ প্রীতি, মোসাম্মদ সাগরিকা ও আলপি আক্তার। এদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ম্যাচ খেলেছেন মিলি, আফঈদা, স্বপ্না রানী, উমেহলা ও প্রীতি।
শিষ্যদের নিয়ে আত্মবিশ^াসী কোচ বাটলারও। মঙ্গলবার ম্যাচপূর্ববর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা সবেমাত্র সিনিয়র এশিয়ান কাপ শেষ করে এখানে এসেছি। আমাদের সাথে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে যাদের জন্য এটি প্রথম অভিজ্ঞতা। এখানে আসতে পারাটা তাদের জন্য অনেক বড় অর্জন এবং আমি আশা করি এটি মেয়েদের জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হবে এবং তারা এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট থেকে কিছু শিখতে পারবে।’ বর্তমান দলে জুনিয়র ও সিনিয়র খেলোয়াড়দের সমন্বয় রয়েছে বলেও জানান বাটলার। তার ভাষায়, ‘আমি অনূর্ধ্ব-২০ দলের ১০ থেকে ১২ জন তরুণ খেলোয়াড়কে সিনিয়র এশিয়ান কাপে নিয়েছিলাম কারণ, তারা জাতীয় দলের কার্যক্রমের সঙ্গেই ছিল। আমরা কিছু ম্যাচে হেরেছি ঠিকই, তবে এই যাত্রায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় উঠে এসেছে।’
থাইল্যান্ডের ভেন্যু ও পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট এই ইংলিশ কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় এই তরুণীদের নিজেদের সেরাটা দেওয়ার এবং অকৃত্রিম থাকার ওপর জোর দিয়েছি। এখানে থাইল্যান্ডে ভালো মানের পিচ, প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা এবং খেলার দারুণ পরিবেশ রয়েছে। তাদের ফুটবলের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে এবং তারা নারী দলের প্রতি খুবই সমর্থনশীল। আমি চাই বাংলাদেশও তাদের নারী ফুটবল দলের প্রতি আরও বেশি সহায়ক হোক এবং এর ওপর আরও গুরুত্ব দিক, কারণ এখানে সম্ভাবনা বিশাল। আর দিনশেষে, এটি মূলত সংখ্যারই খেলা।’
নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাটলার আরও বলেছেন, ‘মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল খেলবে। আমার মনে হয় সিনিয়রদের জাতীয় টুর্নামেন্টে তারা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা আমাদের ভালো অবস্থানে রাখবে। আশা করি ফলাফলের কথা চিন্তা না করে আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখতে পাবো।’ এই টুর্নামেন্ট থেকে থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সরাসরি মূল পর্বে জায়গা করে নেবে। পাশাপাশি তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় হওয়া দুই দলও পাবে পরবর্তী পর্বে খেলার সুযোগ।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: