[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০:০৪ পিএম

‘স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক’, শনিবার ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড পরিদর্শনকালে কথাগুলো বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না বরং ক্লাবগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়। সেই সঙ্গে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আবাহনী ক্লাবের ম্যানেজমেন্টকে নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য সকল ইভেন্টে ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আশাবাদী তিনি।

এ সময় তার সঙ্গে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়া এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ক্রীড়াঙ্গনকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি আহ্বান জানান যে, মাঠের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সব ক্লাবের সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে যেন সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে। মোহামেডানের কর্মকর্তার আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে উপস্থিত থাকাকে তিনি স্পোর্টসম্যানশিপের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রা টিকে থাকবে, আর এ কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আমিনুল হক জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতিমধ্যে তিনশ’জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা পাঁচশ’ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন তিনি।

এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তাদের মাঠের উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে, যা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে এবং মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর