[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভারত-চীন-বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার অনিশ্চয়তা, দামের টানাপোড়েনে স্থবিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬ ১২:০৫ পিএম

বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের বিশাল ফুটবল দর্শকগোষ্ঠীকে সামনে রেখে ২০২৬ ও ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এখন পর্যন্ত এই তিন দেশের কোনো বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের স্বত্ব কিনতে চূড়ান্তভাবে এগিয়ে আসেনি, ফলে পুরো বিষয়টি দামের টানাপোড়েনে স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা FIFA ২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের একটি প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। তবে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বাজার থেকে আসা প্রস্তাবগুলো এর তুলনায় অনেক কম হওয়ায় এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

ভারতের বাজারে সবচেয়ে বড় আগ্রহ দেখিয়েছে রিলায়েন্স জিও ও স্টার স্পোর্টস। তারা যৌথভাবে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা ফিফার প্রত্যাশার তুলনায় প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ—যা ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একই সময়ে সনি নেটওয়ার্ক শুরুতে আগ্রহ দেখালেও পরবর্তীতে এই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অনাগ্রহের পেছনে বড় কারণ সময়সূচির জটিলতা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয়, যার ফলে ভারত ও বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য অধিকাংশ ম্যাচ গভীর রাত বা ভোরে সম্প্রচারিত হবে। এতে সম্ভাব্য দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিজ্ঞাপন আয়কে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।

অন্যদিকে, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে তুলনামূলক অনুকূল সময়সূচির কারণে ডিজিটাল ও টেলিভিশন—দুই মাধ্যমেই উল্লেখযোগ্য দর্শকসংখ্যা দেখা গেলেও, আসন্ন আসরে সেই সুবিধা থাকছে না। ফলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে ঝুঁকি দেখছেন সম্প্রচারকারীরা।

চীনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনিশ্চিত। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আগের আসরগুলোতে সক্রিয় থাকলেও এবার এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুইটি জনসংখ্যার বাজার—ভারত ও চীনে—বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

বাংলাদেশেও এখন পর্যন্ত কোনো টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে আসেনি। যদিও দেশটিতে ফুটবল বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা বরাবরই তুঙ্গে, তবুও উচ্চমূল্য ও অনিশ্চিত বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ফিফার উচ্চমূল্য প্রত্যাশা এবং স্থানীয় বাজারের অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্যই এই অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাই বেশি—যাতে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই আসর থেকে বঞ্চিত না হন কোটি কোটি দর্শক।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর