কানসাস সিটিতে প্রথম অনুশীলন করল আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের আগে নির্ধারিত দুটি প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। সোমবার (১ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে প্রথমবারের মতো পুরো দলকে নিয়ে অনুশীলনে নামেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ২৬ সদস্যের মূল স্কোয়াডের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য ডাকা কয়েকজন অতিরিক্ত ফুটবলারও এই সেশনে অংশ নেন।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যার কিছু পর কানসাস সিটির কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে পৌঁছায় আর্জেন্টিনা দল। সাধারণত এটি এমএলএস ক্লাব স্পোর্টিং কানসাস সিটি ব্যবহৃত একটি অনুশীলন কেন্দ্র। গরম আবহাওয়ার মধ্যেই খেলোয়াড়রা প্রথমে জিমে ফিটনেস সেশন শেষ করেন, পরে মাঠে নেমে হালকা অনুশীলন করেন। পুরো স্কোয়াড একসঙ্গে মাঠে নামায় এটিই ছিল বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পর্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সেশন।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, চোট থেকে সেরে ওঠা খেলোয়াড়দের নিয়ে কোচিং স্টাফ শুরুতেই কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে সবাইকে শতভাগ ফিট রাখাই এখন মূল লক্ষ্য। এর মধ্যেই সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, যিনি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে তিনি ডান পায়ে চোট পান। তবে স্কোয়াডে তাকে রাখার পেছনে আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা হচ্ছে ধীরে ধীরে পুনর্বাসন সম্পন্ন করে বিশ্বকাপের শুরুতেই তাকে প্রস্তুত করা।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজও আছেন আলাদা পর্যবেক্ষণে। ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে আঙুলে চিড় ধরা পড়লেও ব্যান্ডেজ নিয়েই তিনি দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। চিকিৎসকরা তার অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। অন্যদিকে নিকো পাজ এখনও হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন, যা আগে পাওয়া ইনজুরির ধারাবাহিকতা।
রক্ষণভাগেও দুশ্চিন্তা কম নয়। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ধীরে ধীরে পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও তাকে নিয়ে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে হুলিয়ান আলভারেজও এপ্রিলের শেষ দিকে পাওয়া গোড়ালির চোট থেকে সেরে ওঠার পথে আছেন। কোচিং স্টাফ আশা করছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন।
এছাড়া চোটের তালিকায় রয়েছেন নিকোলাস গঞ্জালেস, গঞ্জালো মন্টিয়েল এবং নাহুয়েল মলিনা। ফলে বিকল্প হিসেবেও কয়েকজন ফুটবলারকে ক্যাম্পে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন সান্তিয়াগো বেলত্রান, অগাস্টিন গিয়াই, নিকোলাস কাপালদো, নিকোলাস ডমিঙ্গুয়েজ, মাতিয়াস সুলে, ম্যাক্সিমো পেরোন এবং এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া।
কানসাস সিটিকে ঘিরেই আর্জেন্টিনার পুরো প্রস্তুতি পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এখান থেকেই তারা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে বিভিন্ন শহরে যাবে। ৭ জুন টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ, এরপর ১০ জুন আলাবামার অবার্নে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ খেলবে দলটি।
এই দুই ম্যাচ শেষে আবার কানসাসে ফিরে আসবে আর্জেন্টিনা। সেখানেই চলবে বিশ্বকাপের মূল প্রস্তুতি। ১৭ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর ২২ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এবং ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষেও ম্যাচ খেলে আবার কানসাসে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলের লক্ষ্য অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালে কানসাস সিটিকেই নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখা। ফলে পুরো প্রস্তুতি পর্বে এই শহরই হয়ে উঠছে আর্জেন্টিনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: