শোক আর স্বপ্নের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ, সামনে প্রতিশোধে উজ্জীবিত নেপাল
গোয়ার মাটিতে আজ আরেকটি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ফাইনালে ওঠার লড়াই হলেও ম্যাচটি অনেকটা অলিখিত ফাইনালের আবহ তৈরি করেছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এই দুই দলই নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গত দুই সাফ আসরের ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের স্মৃতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে আসর শুরু করলেও মাঠের খেলায় এখনো নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে পারেনি দলটি। মালদ্বীপের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু হলেও ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশ শিবিরে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতার অভাব এবং মাঝমাঠে সৃজনশীলতার ঘাটতি চোখে পড়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ফুটবলার এখনো প্রত্যাশিত ছন্দে ফিরতে পারেননি। ফলে নেপালের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে।
তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও বাংলাদেশ দলকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে একটি দুঃখজনক ঘটনা। দলের মিডফিল্ডার শিউলি আজিমের মা বাসনা আজিমের মৃত্যু পুরো দলকে শোকাহত করেছে। মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়েও শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেননি শিউলি। যাতায়াতজনিত জটিলতার কারণে গোয়া থেকে দেশে ফিরে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। কঠিন এই পরিস্থিতিতেও সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন তিনি। তার এই মানসিক দৃঢ়তা পুরো দলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে নেপালও দারুণভাবে প্রস্তুত। টানা দুই ফাইনালে বাংলাদেশের কাছে হারের হতাশা কাটিয়ে এবার নতুন ইতিহাস গড়তে চায় তারা। নেপাল শিবিরের বিশ্বাস, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা আরও পরিণত দল হিসেবে মাঠে নামছে। বাংলাদেশকে তারা যথেষ্ট সমীহ করলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখছে।
দুই দলের পরিসংখ্যানও লড়াইয়ের উত্তাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচের মুখোমুখিতে নেপাল জিতেছে ছয়বার, বাংলাদেশ পাঁচবার। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সংখ্যার হিসাবে নেপাল এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক বড় মঞ্চে সফলতা বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলে।
সব মিলিয়ে ইতিহাস, প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা, শোকের আবহ এবং ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন—সবকিছু মিলিয়ে আজকের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে সাফ নারী ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। এখন দেখার অপেক্ষা, প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ আবারও ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে কি না।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: