পেলের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালের জার্সি নিলামে, বিক্রি হতে পারে ৭০ কোটি টাকায়
‘প্রাইসলেস’ যাকে বলে, তেমন কিছুই পাওয়ার সুযোগ ফুটবলপ্রেমীদের। কিংবা যারা অমূল্য স্মারক সংগ্রহ করেন তাদের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে বিশাল কিছু।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের একটি জার্সি উঠতে যাচ্ছে নিলামে। যেন-তেন জার্সি নয়, ১৯৫৮ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে যেই জার্সি গায়ে জড়িয়ে পেলে খেলেছিলেন সেটাই নিলামে উঠতে যাচ্ছে। ব্রাজিল ও সুইডেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের জার্সিটি নিলামে তুলছে সদবিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান; যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি। বাংলাদেশি টাকায় যা ৭০ কোটি টাকার সমতূল্য।
আগামী ২৯ জুন এই জার্সির দরদাম শুরু হবে এবং চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। আয়োজকদের ধারণা, এই জার্সিতে যে কোনো স্মারকের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যর রেকর্ড গড়বে। এবং ভবিষ্যতেও সবচেয়ে ব্যয়বহুল জার্সির রেকর্ডকেও চ্যালেঞ্জ করবে। বর্তমানে এই রেকর্ডটি রয়েছে পেলের সমতূল্য দিয়াগো ম্যারাডোনের হ্যান্ড অব গড জার্সিটির দখলে। ম্যারাডোনোর মৃত্যুর পর ২০২২ সালে ৯২.৮ লাখ ডলারে জার্সিটি বিক্রি হয়েছিল।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলেন পেলে। সুইডেনের বিরুদ্ধে দুটি গোলও করেছিলেন। সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ও গোল করার রেকর্ডটি আজও পেলে নিজের দখলেই রেখেছেন। ম্যাচে ৫-২ গোলে জয় পায় ব্রাজিল। ইতিহাসে প্রথমবার জিতে বিশ্বকাপ। এরপর আরও চার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল হয়ে উঠেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় নাম।
তবে এতো বছর পর জার্সিটি কিভাবে অক্ষত আছে, যত্নে আছে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে পেলে তার ১০ নম্বর জার্সিটি সতীর্থ এবং বিশ্বকাপে তার রুমমেট দিদাকে উপহার দেন। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দিদার পরিবারের কাছেই ছিল জার্সিটি। এরপর তারা ‘মুজেউ দোস এস্পোর্তেস এদভালদো আলভেস সান্তা রোসা’ জাদুঘরে দান করেন। ২০০৪ সালে জার্সিটি প্রথম নিলামে তোলা হয়। ওই সময়েই জার্সিটি ১ লাখ ৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এখন সেই ক্রেতা সদবিস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জার্সিটি আবার নিলামে তুলছেন।
সদবিস-এর মডার্ন কালেকশনস বিভাগের প্রধান ব্রাহম ওয়াচটার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এটি কেবল একটি সাধারণ শার্ট নয়, এটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের পরিহিত সেই পোশাক, যা দিয়ে তার রাজত্বের সূচনা হয়েছিল।’’
জানিয়ে দেওয়া ভালো, ২০১৬ সালে পেলের ২০০০ সামগ্রী নিয়ে তিন দিনব্যাপী একটি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে পেলের ১০০০তম ম্যাচের মুকুটও ছিল। ছিল অসংখ্য ট্রফি, জার্সি, বুট। সেই নিলামে মোট আয় হয়েছিল ৪২ লাখ ডলার। এবারের জার্সি অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাবে এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: