নভেম্বরে ঢাকায় সাফ, ভিএআর চালুর পরিকল্পনা
আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টেল।
আজ বুধবার সাফ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাট্টেল জানান, আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে সাফের সাতটি সদস্য দেশই এই সময়ে অংশগ্রহণে সম্মতি জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সাফের সব সদস্য দেশ টুর্নামেন্টে অংশ নিবে। এজন্যই সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিইনি। তবে এখন বলতে পারি, নভেম্বরে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’ জানা গেছে, ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও কিংস অ্যারেনায় হতে পারে সাফের আসর।
সংবাদ সম্মেলনে ভিএআর প্রসঙ্গে কাট্টেল বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে ভিএআর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন এবং সাফও এই প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে কাজ করছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়।’ তার ভাষায়, ‘ভিএআর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অর্থায়নের বিষয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা স্টেডিয়ামের অবস্থা পর্যালোচনা করবেন। যদি তারা বলেন যে অবকাঠামো প্রস্তুত, তাহলে আমরা ভিএআর ব্যবহার করব।’ তিনি আরও জানান, উন্নতমানের ভিএআর পরিচালনায় প্রতি ম্যাচে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল বিকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে।
আগে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সেপ্টেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কাট্টেল বলেন, ‘ভারতের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততাসহ বিভিন্ন সূচিগত কারণে নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কারন সেপ্টেম্বরে আসিয়ানের একটি টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহনের কথা রয়েছে। পাশাপাশি সব সদস্য দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও ছিল অন্যতম লক্ষ্য।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের জন্য নির্ধারিত মেডিকেল রুম নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, সে বিষয়েও কথা বলেন কাট্টেল। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই। ‘মেডিকেল রুম নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা সেটি সমাধান করেছি। বড় টুর্নামেন্টে ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে, গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত সমাধান করা,’ বলেন তিনি।
সাফে কম দর্শক উপস্থিতি ও আয়-ব্যয়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাফ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাফের মূল উদ্দেশ্য লাভ করা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের কাজ হলো প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং কোর্স, সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তাই শুধু বেশি দর্শক বা বেশি লাভের কথা ভেবে আমরা একটি নির্দিষ্ট দেশে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারি না।’
কাট্টেল জানান, চলতি মাসের মধ্যেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে। সেখানে টুর্নামেন্টের ভেন্যু, সূচি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: