[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

অনুর্ধ্ব-১৪ জাতীয় দলে ডাক পেলেন নরসুন্দরের মেয়ে রিংকি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৭ এএম

অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে আসা এক নারী ফুটবলার রিংকি রানী শীল। নরসুন্দর বাবার এই কন্যা দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে অনুর্ধ্ব-১৪ জাতীয় নারী দলে ডাক পেয়েছে।

ফুটবলের আকাশে তারকা হয়ে জ্বলার স্বপ্ন নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। তবে এই উদীয়মান খেলোয়াড়ের সামনে পাহাড়সমান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের অভাব-অনটন।

গাইবান্ধা জেলার এক জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে জন্ম নেয়া রিংকির শৈশব কেটেছে পাড়া-প্রতিবেশীর দেয়া পুরোনো জামায়। সম্পদ বলতে তাদের রয়েছে কেবল কয়েক শতক বসতভিটে। তারপরও রিংকির পাহাড় জয়ের স্বপ্ন পূরণে চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেননি তার বাবা সুকুমার শীল।

যেভাবে ফুটবলে আসা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক টুর্নামেন্টে ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রিংকির খেলার নৈপুণ্য নজর কাড়ে গাইবান্ধা ফুটবল একাডেমির কোচ ও প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল কুদ্দুসের। পরে তিনি পরিবারকে রাজি করিয়ে রিংকিকে অনুশীলন করাতে শুরু করেন।

কোচ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ফুটবলের প্রতি রিংকি ছোটবেলা থেকেই বেশ আগ্রহী। সপ্তাহে তিন দিন ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গাইবান্ধা স্টেডিয়ামে এসে সে কঠোর অনুশীলন করত।’

সেই পরিশ্রমের ফল মেলে ২০২৫ সালে। দিনাজপুর বিকেএসপিতে পরীক্ষা দিয়ে দেশসেরা হয়ে ভর্তির সুযোগ পায় রিংকি। বর্তমানে সে সেখানে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

দারিদ্র্যের কশাঘাত

মাঠে রিংকির পায়ের জাদু দর্শকদের মুগ্ধ করলেও তার মাঠের বাইরের জীবনটা বড়ই নির্মম। রিংকি রানী শীল জানায়, সেলুন ব্যবসায়ী বাবার শরীরে রোগশোক বাসা বেঁধেছে। তার মা রানী বালাও ভুগছেন নানা ব্যাধিতে। অভাবের সংসারে চার বোন আর মা-বাবার মুখে অন্ন জোগাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে তার জন্য বাড়তি যত্ন বা খেলাধুলার খরচ চালানো এক কঠিন লড়াই।

রিংকি বলে, ‘ছোটবেলায় আমার জন্য মা, বাবা ও চাচা অনেক কষ্ট করেছেন। মা পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে জামাকাপড় চেয়ে নিয়ে আমাকে বড় করেছেন। কাজের বিনিময়ে অন্যের বাড়ি থেকে আমাদের জন্য খাবার সংগ্রহ করেছেন।’

বড় হয়ে পরিবারের দুঃখ ঘোচানোর পাশাপাশি স্বপ্ন পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে এই নারী ফুটবলার।

কর্মকর্তাদের আশ্বাস
গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব শহীদুজ্জামান শহীদ বলেন, ‘ক্রীড়া সংস্থা থেকে ফুটবল একাডেমি আলাদা হওয়ার পর থেকে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন একপ্রকার নিষ্ক্রিয়। আগের সরকারের আমলে সকল খেলাধুলা ঝিমিয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারো ক্রীড়াঙ্গনকে সচল করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন।’ রিংকি রানী শীলদের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারদের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

গাইবান্ধা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রিংকি রানী শীল গাইবান্ধার গর্ব। এর আগেও তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনুর্ধ্ব-১৪ জাতীয় নারী দলে রিংকির ডাক পড়েছে, যা নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর। তার ফুটবল জয়ের স্বপ্ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

মেসি, ঋতুপর্ণা কিংবা সাবিনা খাতুনদের আদর্শ মেনে দেশের লাল-সবুজের জার্সিকে বিশ্বমঞ্চে ওড়াতে চান রিংকি। তবে এই প্রতিভার বিকাশ কি কেবলই দারিদ্র্যের বেড়াজালে আটকে থাকবে, নাকি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে রিংকিদের ঘরের অন্ধকার কাটবে; এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর