[email protected] রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬
৪ঠা শ্রাবণ ১৪৩৩

কতটা বিতর্কিত ছিল আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৭ এএম

খেলার প্রথমার্ধে গোল শূন্য আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত ফর্মে কামব্যাক করে দ্বিতীয়ার্থ খেলায়। আটলান্টা স্টেডিয়ামে অসম্ভবকে সম্ভব করে মিশরকে কাঁদিয়ে শেষ হাসি হাসে আকাশি দলের সমর্থকরা।

তবে জয় পেলেও দলটির পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনা দলটির জয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা নেটিজেনদের একাধিক মন্তব্য ও কটাক্ষ।

৭ জুলাই মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। টানটান উত্তেজনা আর নানা নাটকীয়তার পর জয়ের হাসি দলটি। তবে জিতলেও একাধিক বিতর্কে প্রশ্নবিদ্ধ র‍্যাঙ্কিং এবং শক্তির দিক থেকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি।

এক নজরে আর্জেন্টিনা- মিশর ম্যাচের বিতর্কিত বিষয়গুলো-

১। ম্যাচ শুরুর ১৪তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মারওয়ান আত্তিয়ার চমৎকার এক ক্রস থেকে হেড করে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ান মিসরের ইয়াসির ইব্রাহিম। এ গোল হজম করার পরপরই পেনাল্টি পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ মিস করে পেনাল্টি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় দলটি।

২। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা। খেলার দ্বিতীয়ার্ধেও পিছিয়ে থাকতে দেখা যায় দলটিকে। খেলার ৫৮তম মিনিটে দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে মিশরের হয়ে গোল করে মোস্তফা জিকো। কিন্তু গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। ভিএআর চেক করে রেফারি দেখেন- প্রেসিং করে বল দখলের সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের পায়ে আলতো করে পাড়া পড়েছে। যে কারণে ফাউল এবং গোল বাতিল। গোলের পরিবর্তে মিসর বাঁ প্রান্ত থেকে ঝুঁকিতে পড়ার মতো ফ্রি কিকের মুখে পড়ে।

৩। মিসরের গোলটি যেমন ফাউলের কারণে বাতিল হলো ঠিক তেমনই একটা ফাউলের দাবি আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের সময় তোলেন মোহামেদ সালাহরা। ম্যাচের তখন ৯২ মিনিট। বল টেনে আর্জেন্টিনার বক্সের ডান প্রান্তে ঢুকেছেন সালাহ। শট নেয়ার সুযোগ খুঁজছেন তিনি। তার পা থেকে বল কেড়ে নিতে পেছন থেকে আলতো ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু ওই ট্যাকলের সালাহর পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করে। আলভারেজ পায়ের সঙ্গে বলের সংযোগ হয়নি। সালাহ পড়ে যান মাটিতে। বল দখলে নিয়ে মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক তোলে আর্জেন্টিনা। লওতারো মার্টিনেজ মিসরের অর্ধে বল পেয়ে বা প্রান্ত থেকে লম্বা করে পাস দেন বক্সে। হেড করে জালে বল পাঠান এনজো। ওই ঘটনায় ভিএআরে চেক করার দাবি তোলে মিসর। কিন্তু রেফারি সেটি নাকচ করে দেন।

৪। ভিএরআর চেক করে সালাহ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়ে যাওয়ার কথা মিসরের। কিন্তু হলো উল্টোটা। আর্জেন্টিনার নামে লেখা হলো দুর্দান্ত কাউন্টার, গোল যেটি আর্জেন্টিনাকে দিলো কামব্যাকে রূপকথার জয়।

৫। খেলার মাঠে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের অনৈতিকতায় মেজাজ হারাতে দেখা যায় মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের। তাদের অভিযোগ, ম্যাচে রেফারি ফ্রাঁসোয়ার কিছু অনৈতিক সিদ্ধান্ত খেলার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। এমন অভিযোগে মাঠে রেফারির সঙ্গে মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বাকবিতণ্ডা দেখা দিলে দেখা যায় একেএকে মিসরের খেলোয়াড় সুবাইর, ফাতি ও হাইসেন হাসান এবং কোচ হোসাম হাসান হলুদ কার্ড দেখেন। আর খেলার একেবারে শেষ পর্যায়ে আর্জেন্টিনা মাত্র ১৪ মিনিটের মধ্যে ৩টি গোল করে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয়।

৬। ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। ক্ষোভ ও হতাশায় তিনি বিশ্বকাপকে পাতানো দাবি তুলে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে রাখা উচিত।’

প্রসঙ্গত, মিশর, দর্শক ও নেটিজেনদের এসব অভিযোগের বিষয়ে ম্যাচ কর্মকর্তারা বা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরব। এবারের বিশ্বকাপ খেলায় পূর্বে হয়ে যাওয়া একাধিক ম্যাচে ওঠা অভিযোগের মতো এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর